কৃষি থেকে প্রতিরক্ষা, বিপর্যয় মোকাবিলা থেকে সার্ভে, পরিকাঠামো পরিদর্শন থেকে লজিস্টিক্স—বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত বাড়ছে ড্রোনের ব্যবহার। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, সেন্সর এবং মেশিন লার্নিংয়ের সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তির সংযোগ তৈরি হওয়ায় অটোনমাস সিস্টেমস-এর গুরুত্বও বাড়ছে। ফলে এই ক্ষেত্রে দক্ষতা তৈরি করে ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর কেরিয়ার গড়ার সুযোগও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কী পড়তে হয়?
ড্রোন ও অটোনমাস সিস্টেম নিয়ে কাজ করতে চাইলে শুধুমাত্র ড্রোন ওড়ানো জানলেই হয় না। পড়াশোনায় এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স, রোবোটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, কন্ট্রোল সিস্টেমস এবং জিওস্পেশিয়াল টেকনোলজি-র মতো বিষয়েও জানা প্রয়োজন হয়।
ড্রোনের ক্ষেত্রে ফ্লাইট ডায়নামিক্স অ্যান্ড কন্ট্রোল, সেন্সরস, নেভিগেশন, কমিউনিকেশন, ফ্লাইট কন্ট্রোলার, জিপিএস, ডেটা প্রসেসিং, জিআইএস এবং ড্রোন ডিজ়াইনের মতো বিষয় শেখানো হয়। অটোনমাস সিস্টেমে এর সঙ্গে যুক্ত হয় রোবোটিক্স, মেশিন লার্নিং, কম্পিউটার ভিশন, সেন্সর ফিউশন এবং অটোনমাস ন্যাভিগেশন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোথায় পড়ার সুযোগ?
ভারতে ড্রোন ও অটোনমাস সিস্টেমের উপর ব্যাচেলর (বিটেক), মাস্টার্স (এমটেক) এবং শর্ট-টার্ম ডিপ্লোমা ও সার্টিফিকেট কোর্স করার একাধিক সরকারি সুযোগ রয়েছে।
আইআইটি: আইআইটি কানপুর, আইআইটি বম্বে, আইআইটি মাদ্রাজ এবং আইআইটি খড়্গপুরের মতো শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে এরোস্পেস এবং রোবোটিক্স বিভাগের অধীনে অটোনমাস ড্রোন প্রযুক্তির বিশেষ কোর্স ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে।
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ) অনুমোদিত কেন্দ্র: কেবল ডিগ্রি নয়, ‘রিমোট পাইলট সার্টিফিকেট’ বা ড্রোন ওড়ানোর লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ডিজিসিএ স্বীকৃত একাধিক সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত কেন্দ্র থেকে পাইলট ট্রেনিং দেওয়া হয়। ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ ড্রোনস’ এবং বিভিন্ন সরকারি ফ্লাইং ক্লাব থেকে এই প্রশিক্ষণ নেওয়া সম্ভব।
সিএসআইআর ও এনএএল: কাউন্সিল অফ সায়েন্টিফিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ এবং ন্যাশনাল এরোস্পেস ল্যাবরেটরিজ়ের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থায় এই প্রযুক্তির উপর প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্ট ও ইন্টার্নশিপের সুবিধা পাওয়া যায়।
অন্য দিকে, তুলনামূলক স্বল্পমেয়াদি বা পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগও রয়েছে। সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট অফ অ্যাডভান্সড কম্পিউটিং-এ (সি-ড্যাক) সার্টিফিকেট ইন ড্রোন টেকনোলজিস এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম প্রোগ্রামিং-এর মতো কোর্স রয়েছে। পিজি ডিপ্লোমা কোর্সে ইউএএস ডিজ়াইন, প্রোটোটাইপিং, সেন্সরস, জিআইএস, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং ড্রোন-বেসড অ্যাপ্লিকেশনস-এর মতো বিষয় পড়ানো হয়।
যে সকল পড়ুয়া অল্প বয়সেই এই বিভাগ নিয়ে পড়তে চায়, তাদের জন্যও সরকারি প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ট্রেনিং (ডিজিটি)-এর অধীনে ড্রোন টেকনিশিয়ান এবং ড্রোন পাইলট (জুনিয়র) ট্রেড চালু রয়েছে। দু’টি কোর্সের ক্ষেত্রেই দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হতে হয়, কোর্সের মেয়াদ থাকে ছ’মাসের।
ড্রোন পাইলট হতে চাইলে?
শুধু প্রযুক্তিগত পড়াশোনা নয়, পেশাদার ড্রোন পাইলট হওয়ার জন্য ডিজিসিএ অনুমোদিত রিমোট পাইলট ট্রেনিং অর্গানাইজ়েশনে (আরপিটিও) প্রশিক্ষণ নেওয়া যায়। ইন্দিরা গাঁধী রাষ্ট্রীয় উড়ান অ্যাকাডেমিতেও (আইজিআরইউএ) ডিজিসিএ সার্টিফায়েড ড্রোন প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে।
আরও পড়ুন:
কী ধরনের চাকরি মিলতে পারে?
এই ক্ষেত্রে চাকরির পরিসর ক্রমশ বাড়ছে। ড্রোন পাইলট, ড্রোন টেকনিশিয়ান, ইউএভি ডিজ়াইন ইঞ্জিনিয়ার, ফ্লাইট কন্ট্রোল ইঞ্জিনিয়ার, রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ার, অটোনমাস সিস্টেমস ইঞ্জিনিয়ার, ড্রোন সফটওয়্যার ডেভেলপার, কম্পিউটার ভিশন ইঞ্জিনিয়ার, জিআইএস বা ড্রোন ডেটা অ্যানালিস্ট এবং গবেষক হিসাবে কাজের সুযোগ রয়েছে। কৃষি, সার্ভে ও ম্যাপিং, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, পরিবেশ পর্যবেক্ষণ, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং লজিস্টিক্স—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এই দক্ষতার ব্যবহার রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের তথ্যে অনুযায়ী, ড্রোন-সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ শেষ করা প্রার্থীদের অপারেশনস, মেনটেন্যান্স, ডিজ়াইন, ম্যানুফ্যাকচারিং এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স-এ কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই শুধু ড্রোন ওড়ানোর প্রশিক্ষণ নয়, প্রোগ্রামিং, এআই, রোবোটিক্স, ইলেকট্রনিক্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং অটোনমাস ন্যাভিগেশন-এর মতো দক্ষতার সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তিকে মিলিয়ে পড়াশোনা করলে এই ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি কেরিয়ারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি হতে পারে।