বিহারের নালন্দা জেলার পারসি মিড্ল স্কুলে নুনের বদলে পড়ুয়াদের পাতে পড়েছিল কাপড় কাচার গুঁড়ো সাবান। অসুস্থ হয়েছিল প্রায় ৪০ জন পড়ুয়া। এ বার সেই একই ঘটনা ঘটল হিমাচল প্রদেশের কুল্লু জেলার পতলীকুহল এলাকার বারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তবে এ বার নুন নয়, মিড-ডে মিলে দেওয়া পায়েস খেয়ে অসুস্থ হল অন্তত ৩৮ জন খুদে পড়ুয়া।
সূত্রের খবর, পায়েস খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই খুদে পড়ুয়াদের তীব্র পেটব্যথা, বমি, ডায়ারিয়া এবং জ্বর আসতে শুরু করে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষা দফতরে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্কুল পরিচালন সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার শিশুদের আবদার মেনেই স্কুলে চালের পায়েস তৈরি করা হয়েছিল। সে দিন স্কুলে উপস্থিত ছিল মোট ৪৩ জন শিক্ষার্থী। খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্কুলগেটের সামনে এবং বাড়ি ফেরার পথে একের পর এক শিশু অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকেরা তড়িঘড়ি আক্রান্ত শিশুদের পতলীকুহলের কমিউনিটি হেল্থ সেন্টারে নিয়ে যান।
কুল্লুর সিএমও ডক্টর রঞ্জিত ঠাকুর জানিয়েছেন, মোট ৩৮ জন শিশুকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আনা হয়েছিল। চিকিৎসার পর ১৫ জন শিশুকে ছেড়ে দেওয়া হলেও, পাঁচ জন শিশুর শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাঁদের কুল্লু আঞ্চলিক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। আপাতত বাকি শিশুদের অবস্থাও কিছুটা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরেই স্বাস্থ্য দফতরের একটি বিশেষ প্রতিনিধিদল স্কুলে যায় এবং রান্নার জায়গা পরিদর্শন করে। পায়েস তৈরিতে ব্যবহার করা চাল, চিনি এবং জলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, সেচ ও জনস্বাস্থ্য দফতরের তরফে স্কুলের কলের জলের নমুনা সংগৃহীত হয়েছিল।
স্কুলের মিড-ডে মিলের রাঁধুনি জানিয়েছেন, গ্রাম থেকেই সংগৃহীত দুধ, চাল, চিনি এবং স্কুলের পাইপের জল দিয়ে পায়েস রান্না করা হয়েছিল। তিনি ও স্কুলের অন্য শিক্ষকেরাও সেই একই পায়েস খেয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। অসুস্থ পড়ুয়ার এক অভিভাবক জানিয়েছেন, দুপুর ১টা পর্যন্ত শিশুরা সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। তার পরেই হুট করে স্কুলের গেটের মুখে অনেকে বমি করতে করতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। অন্য এক অভিভাবক ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং দুধে কোনও বিষাক্ত পদার্থ বা রাসায়নিক ভেজাল ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার আর্জি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যেই স্থানীয় বিধায়ক ভুবনেশ্বর গৌর হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থ শিশু ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। গোটা ঘটনার দায় নির্ধারণ করতে এবং সঠিক কারণ বের করতে মহকুমাশাসককে নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেই খবর পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, স্কুলের দেওয়া মিড-ডে মিল খেয়ে অসুস্থ হওয়ার খবর বেশ কয়েক দিন ধরেই ছড়িয়ে পড়ছে। খোদ কলকাতার একটি স্কুলেও কিছু দিন আগে হঠাৎ করে একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে বেশ কয়েক জন পড়ুয়া। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে দু’-একদিন চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয় তাদের সকলকে। যদিও সেই ঘটনা আদৌ মিড-ডে মিল খেয়েই হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি। অন্যদিকে, বিহারের এক স্কুলের তরফে দেওয়া মিড-ডে মিলে ভাতের সঙ্গে সয়াবিনের তরকারি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে অভিযোগ ওঠে, খাওয়ার কিছুক্ষণ পর থেকেই অস্বস্তি শুরু হয় পড়ুয়াদের। পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করতে শুরু করে কিছু পড়ুয়া। বমিও করতে থাকে কেউ কেউ। পর পর অনেক ছাত্রছাত্রী একসঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্কুল কর্তৃপক্ষ তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। অন্তত ৪০ জন ছাত্রছাত্রী আপাতত অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরে জানা যায়, সয়াবিনের তরকারিতে নুন হয়নি। তারা নুন চাওয়ায় স্কুল থেকেই নুন দেওয়া হয় ছাত্রছাত্রীদের খাবারের থালায়। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীরা অসুস্থ হয়ে পড়তে শুরু করে। কারণ, নুনের পরিবর্তে কাপড় কাচার গুঁড়ো সাবান দেওয়া হয়েছিল।