নিট-ইউজি ২০২৬-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিলের পর ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি-র (এনটিএ) জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো তৈরির সুপারিশ করল সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
‘এনটিএ-র সংস্কার ও শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে কমিটি জানায়, পরীক্ষার উপর জনসাধারণের আস্থা সামাজিক ন্যায়বিচার ও জাতীয় অখণ্ডতার সঙ্গে যুক্ত। তাই পরীক্ষার নিরাপত্তা বৃদ্ধি, জবাবদিহি, পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থা শক্তিশালী করার সুপারিশও করেছে কমিটি। পাশাপাশি, সংগঠিত পরীক্ষার জালিয়াতি রুখতে শিক্ষা দফতরকে সংসদীয় কাঠামো তৈরির পরামর্শও দিয়েছে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বয়ঃসীমা
কত দিন নিট ইউজি-তে বসা যাবে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বা বয়সের ঊর্ধ্বসীমা স্থির নয়। এ বিষয়ে ৭০ বছরের বেশি বয়সিদের পরীক্ষায় বসার প্রসঙ্গ তুলে শিক্ষা মন্ত্রককে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার কথা জানানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তবে ইউজিসি নেট-এর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখার কথাও বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সরকারি কেন্দ্র ও প্রশ্নভান্ডার
পরীক্ষায় কম্পিউটার-ভিত্তিক পদ্ধতি (সিবিটি) চালু, সরকার পরিচালিত কেন্দ্র বাড়ানো এবং নিরাপদ সরকারি সিবিটি কেন্দ্র গড়তে নির্দিষ্ট পরিকল্পনার সুপারিশ করেছে কমিটি। দেরিতে পৌঁছনো পরীক্ষার্থীদের লিখিত অঙ্গীকারের বিনিময়ে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে এই সুপারিশে।
আরও পড়ুন:
প্রশ্নফাঁস রুখতে কালো তালিকাভুক্ত পরীক্ষা-পরিচালনাকারী সংস্থার জাতীয় তালিকা এবং বড়, বৈচিত্র্যপূর্ণ ও নিয়মিত নতুন প্রশ্নভান্ডার তৈরির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আইআইটি, এইমস ও আইআইএমের বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন তৈরি ও অনুবাদে যুক্ত করার পাশাপাশি তাঁদের সততা, স্বার্থের সংঘাত এবং বেসরকারি কোচিং সংস্থা বা পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগসূত্র যাচাইয়ের সুপারিশ করেছে কমিটি।
এনটিএ-তে ৪১ শতাংশ পদ শূন্য
এনটিএ-র অনুমোদিত ৩৯টি পদের মধ্যে মাত্র ২৩টি পূর্ণ; শূন্যপদের হার ৪১ শতাংশ। সব ক’টি স্থায়ী পদই ডেপুটেশনের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে প্রকল্পের আধিকারিকরা যেন নেতৃত্বকে সহায়তা করেন, বিশেষজ্ঞদের বিকল্প না হন, তা নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন কমিটি। মানুষের মনে আস্থা ফেরাতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত, স্বচ্ছ ও দ্বিমুখী যোগাযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।