Advertisement
E-Paper

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে ক্যাম্পাসে লাগাতার অবস্থান পড়ুয়াদের একাংশের, ফের উত্তপ্ত এসআরএফটিআই

সোমবার থেকে ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে গোলমালের ঘটনায় উপাচার্যের ভূমিকা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়ারা।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:১৭

ফাইল চিত্র।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে এ বার লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করলেন সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (এসআরএফটিআই) পড়ুয়ারা।

সোমবার থেকে ক্যাম্পাসের মধ্যে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে গোলমালের ঘটনায় উপাচার্যের ভূমিকা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলে আন্দোলনে নেমেছেন পড়ুয়ারা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিকবার দাবি জানানো সত্ত্বেও উপাচার্য তাঁদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন না। পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যার সমাধানেরও কোনও উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের অভিযোগ, গত ২৭ সেপ্টেম্বর এবং ৪ অক্টোবর এসআরএফটিআইয়ের ক্যাম্পাসের ভিতরে ও বাইরে যে গোলমালের ঘটনা ঘটেছিল, সেখানে যথেষ্ট তৎপর ছিলেন না কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপাচার্যের তরফেও যথাযথ পদক্ষেপ করা হয়নি। ওই ঘটনাগুলিতে যাঁরা দোষী, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পড়ুয়াদের একাংশ। তাঁদের দাবি, ক্যাম্পাসে এমন ঘটনার পরেও কর্তৃপক্ষের তরফে কার্যকর পদক্ষেপ না করা এবং তাঁদের অভিযোগকে গুরুত্ব না দেওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

পড়ুয়াদের আরও অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ মিলছে না। তাঁরা জানাচ্ছেন, পড়ুয়াদের বক্তব্য শোনা এবং তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কিন্তু সেই উদ্যোগের অভাবেই উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।

এই পরিস্থিতিতে দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আন্দোলনকারীদের একাংশ। ক্যাম্পাসের মধ্যেই তাঁদের এই অবস্থান কর্মসূচি চলছে। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি ছাড়াও সাম্প্রতিক গোলমালের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া এবং পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের বিষয়টি আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) একটি সংগঠনের কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছিল এসআরএফটিআই। এই কর্মসূচির প্রতিবাদ করায় পড়ুয়াদের উপর চড়াও হওয়ার অভিযোগ ওঠে ‘অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত বা এবিজিপি-র (পশ্চিমবঙ্গ প্রান্ত)’ সদস্যদের বিরুদ্ধে। পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মারধরের পাল্টা অভিযোগ তোলেন এবিজিপি-র সদস্য-সমর্থকেরা। ওই ঘটনার প্রতিবাদে গত ৪ অক্টোবর আর এক রবিবার প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চ’। সে দিন ফের গোলমাল হয়। ক্যাম্পাসে ঢোকার সব দরজা বন্ধ থাকলেও মিছিল করে এসে ‘হিন্দু জাগরণ মঞ্চের’ সদস্যেরা জড়ো হন। গেট ধরে ঝাঁকাতে থাকেন বলে অভিযোগ। গেটের ও পারে কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে জমায়েত করেছিলেন পড়ুয়ারাও। পড়ুয়া এবং হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যদের স্লোগানযুদ্ধের মধ্যেই পাথর এবং ঢিল ছোড়াছুড়ি চলতে থাকে। পড়ুয়াদের অভিযোগ, গেটে টাঙানো অম্বেডকরের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়। ওই ঘটনার জেরে পঞ্চসায়র থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার দীপক কুমার।

SRFTI

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy