শিক্ষাঙ্গনে হিংসা ছড়ানোর ঘটনায় এ বার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। পাশাপাশি দেশ জুড়ে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঘটে চলা আক্রমণের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ডাকও দিলেন তিনি।
সম্প্রতি এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে হামলা এবং তার পরবর্তী ঘটনাক্রম ও ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাক্তনী সংসদ। সেখানেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক হিসাবে নিজের সংহতি জানান অমর্ত্য সেন।
ই-মেল বার্তায় নবতিপর অর্থনীতিবিদ লেখেন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর যে ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে, তা জেনে আমি হতবাক। এর আগে কখনও রাজনৈতিক হিংসা থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার এমন প্রয়োজনীয়তা তৈরি হয়নি। আমার দেশের অন্য সাধারণ নাগরিক এবং যাঁরা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষাগ্রহণ করছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন। প্রায় ৭০ বছর আগে আমি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই অধ্যাপনাজীবন শুরু করেছিলাম এবং এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমার নিবিড় যোগ। কিন্তু হিংসা থেকে মুক্তির অধিকার আমাদের সকলের রয়েছে। এই ধরনে হিংসাত্মক কার্যকলাপের নেপথ্যে যে সাম্প্রদায়িক ভাবনা রয়েছে, দ্ব্যর্থহীন ভাষায় তার নিন্দা করা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন:
গত ২৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট-এ গোলমাল শুরু হয়। পড়ুয়ারা অভিযোগ করেন, তাঁদের ক্যাম্পাসের ভিতরের প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল দক্ষিণপন্থী এক সংগঠনকে। এর প্রতিবাদ জানাতেই বহিরাগতেরা পড়ুয়াদের উপর হামলা চালায়। দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর ৪ অক্টোবরও একদফা হামলা চলে এসআরএফটিআই-এ।
এ ঘটনায় এসআরএফটিআই কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে দাবি উঠেছে উপাচার্যের পদত্যাগের।
বিপরীতে, কর্তৃপক্ষও উপাচার্যকে হেনস্থা এবং প্রতিষ্ঠানে ‘গুন্ডাগিরি’ চালানোর অভিযোগে বহিষ্কার করেছে ৬ ছাত্রকে। এর প্রতিবাদে প্রায় একমাস ধরে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন পড়ুয়ারা। গত ২৭ অক্টোবর তাঁরা সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে সংহতি প্রার্থনা করেছিলেন। পাশে দাঁড়িয়েছিল যাদবপুর, আলিয়া, আইএসআই-এর মতো প্রতিষ্ঠান।
এসআরএফটিআই-এর ঘটনার প্রেক্ষিতে শিক্ষাঙ্গনে আক্রমণ ও ছাত্রসমাজের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বার্তা দিয়েছিলেন বলিউডের প্রবীণ ও প্রতিবাদী অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ। ২৭ অক্টোবর ক্যাম্পাসের বাইরে থেকেই প্রতিবাদী পড়ুয়াদের বার্তা দিয়েছিলেন চিত্রপরিচালক কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়।
তবে এই প্রথম নয়। গত অগস্টে একটানা হামলার ঘটনা ঘটে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়েও। মাঝরাতে বহিরাগতেরা ক্যাম্পাসে ঢুকে তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ।