স্নাতক পঞ্চম সেমেস্টারে অনুত্তীর্ণের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দুশ্চিন্তায় পড়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অসাফল্যের হার কমিয়ে আনতে নানা বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে একটি কমিটি গঠন করেন কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, সম্প্রতি সেই কমিটি রিপোর্ট জমা দিয়েছে উপাচার্যের কাছে। পরবর্তী সিন্ডিকেটে তা নিয়ে আলোচনাও হতে পারে বলে খবর।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, মাসখানেক আগে পঞ্চম সেমেস্টারের ফলপ্রকাশের পরে দেখা যায়, বিজ্ঞান ও গণিতের অনুত্তীর্ণ পড়ুয়ার সংখ্যা অস্বাভাবিক বেশি। কার্যত চিন্তায় পড়েন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়। জানানো হয়, ‘মেজর’ বিষয়ের বিন্যাস ঠিক নেই। সে কারণেই সমস্যায় পড়ছেন পড়ুয়ারা। এই সমস্যার সমাধানে প্রশ্ন সংকলন তৈরি করা থেকে নানা ধরনের পদক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তৈরি করা হয় কমিটি।
সেই কমিটিরই এক সদস্য জানান, সব দিক খতিয়ে দেখে তাঁরা জানতে পেরেছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় সেমেস্টারে ‘মেজর’ বিষয়ের মধ্যে মাত্র একটি পত্রই পড়ুয়াদের পড়তে হচ্ছে। তৃতীয় সেমেস্টারে দু’টি এবং চতুর্থ সেমেস্টারে তিনটি। এর পর পঞ্চম ও ষষ্ঠ সেমেস্টারে চারটি করে পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে। এই বিন্যাসেই পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। সুপারিশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে তৃতীয় সেমেস্টার পর্যন্ত দু’টি করে এবং চতুর্থ থেকে ষষ্ঠ পর্যন্ত তিনটি করে পত্র পড়তে হবে। প্রথম দু’টি সেমেস্টারে কোনও চাপ না থেকে পরবর্তী পর্যায়ে বাড়তি চাপ পড়ে যাওয়াতেই সমস্যা হচ্ছিল বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যেরা। তাই এই সিদ্ধান্ত।
পত্রের সংখ্যা একই থাকলেও সব সেমেস্টারে সেই চার ভাগ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থিয়োরি এবং প্র্যাকটিকাল-সহ সার্বিক ফলাফলে ৩০ শতাংশ পেলেই পাশ করিয়ে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। এখানেও পড়ুয়ারা বাড়তি সুযোগ পাবে বলে মনে করছে শিক্ষামহল।
যদিও কলেজ শিক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, অতীতে যা ‘পাস’-‘অনার্স’ হিসাবে পরিচিত ছিল, এখন তা-ই ‘মাইনর’-‘মেজর’। পাস কোর্সের বিষয়গুলিকে অবহেলা করার প্রবণতা পুরনো পদ্ধতির পড়ুয়াদের মধ্যেও ছিল। তখন পাস বিষয়ের নম্বরে তত গুরুত্ব ছিল না। বর্তমানে মেজর ও মাইনর— উভয় কোর্স থেকেই নম্বর যুক্ত হয়। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন বলে মনে করেন তাঁরা।