Advertisement
E-Paper

চাপ কমাতে ৫ বছরের পাঠ্যক্রমের পুরনো নিয়ম ফিরবে আইআইটি-তে? প্রস্তাব প্রাক্তন অধিকর্তার

আইআইটি ইতিহাসের গোড়ার দিকে, ১৯৫১ সালে যখন আইআইটি খড়্গপুর তৈরি হল, তখন স্নাতক স্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হত ৫ বছর ধরেই। তবে প্রাক্তন আইআইটি অধিকর্তা পুরোপুরি সেই নিয়মে ফিরতেও বলছেন না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:৫০
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

আইআইটির সমস্ত ছাত্রের একই মেধা বা একই শেখার গতি হতে পারে না! তাহলে তাঁরা প্রত্যেকে একই সময়ে পাঠ্যক্রম আত্মস্থ করতে পারবেন— এমনটাই বা আশা করা হয় কেন? প্রশ্ন তুললেন আইআইটি-রই এক প্রাক্তন অধিকর্তা।

আইআইটি বম্বে-র ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনায় যখন দেশজুড়ে বিতর্ক চলছে এবং নানা কারণের পাশাপাশি আইআইটিতে পড়াশোনার চাপকেও দায়ী করা হচ্ছে, তখন আইআইটি দিল্লির ওই প্রাক্তন অধিকর্তা রামগোপাল রাও প্রস্তাব দিয়েছেন, “আইআইটির ব্যাচেলর অফ টেকনোলজি বা বি টেক পাঠ্যক্রমটির শেষ করার সময়কাল ৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৫ বছর করে দেওয়া হোক।” তাঁর মতে, তাতে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে উপর চাপ কিছুটা হলেও কমবে। যাঁদের পড়া আত্মস্থ করার অসুবিধা হচ্ছে, তাঁরা কিছুটা বাড়তি সময় হাতে পাবেন।

এর আগে অবশ্য আইআইটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বি টেক পড়তে ৫ বছরই সময় লাগত। আইআইটি ইতিহাসের গোড়ার দিকে, ১৯৫১ সালে যখন আইআইটি খড়্গপুর তৈরি হল, তখন স্নাতক স্তরের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ানো হত ৫ বছর ধরেই। মূলগত বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের পাশাপাশি ওই পাঠ্যক্রমে হাতেকলমে দীর্ঘদিন ধরে শেখানো হত প্রযুক্তি বিষয়ক পাঠ। তবে রামগোপাল, পুরোপুরি সেই পুরনো প্রক্রিয়ায় ফিরে যেতে বলছেন না।

আইআইটি দিল্লির প্রাক্তন অধিকর্তা, যিনি একটা সময় আইআইটি বম্বেরও শিক্ষক ছিলেন, তিনি বলছেন, “যাঁরা সাড়ে তিন বছর বা চার বছরের মধ্যে পাঠ্যক্রম শেষ করতে পারবেন, তাদের অগ্রিম ডিগ্রি দেওয়ার ব্যবস্থা থাক। কিন্তু যাঁরা পারলেন না, তাঁদের যেন ব্যর্থ হিসাবে দেখা না হয়। কোর্সের মেয়াদ ৫ বছর বলে ঘোষণা করলে তাঁরা নিজের মতো করে শেখার সময় নিতে পারবেন অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে।

আইআইটিতে সময়ের আগে পাঠ্যক্রম শেষ করার সুবিধা নেই তা নয়। বিভিন্ন আইআইটি প্রতিষ্ঠানই এখন ‘আর্লি এক্সিট’ এর সুবিধা দিয়ে থাকে। তবে সময়ের মেয়াদ অনুসারে বদলে যায় স্বীকৃতির ধরন। কোনওটি সার্টিফিকেট কোর্স, কোনওটি ডিপ্লোমা। আর মেয়াদ সম্পূর্ণ করলে ডিগ্রি। রামগোপাল যদিও তাঁর প্রস্তাবে বলেছেন এক্ষেত্রে যদি কেউ সাড়ে তিন বা চার বছরে আর্লি এক্সিট করেন তবে তিনি সম্পূর্ণ ডিগ্রিরই অধিকারী হবেন। ৫ বছরের সঙ্গে তাঁদের প্রাপ্য ডিগ্রির তফাত থাকবে না। শুধু বাকিরা ওই একই ডিগ্রি পেতে কিছুটা বেশি সময় নেবেন।

যুক্তি হিসাবে প্রাক্তন আইআইটি অধিকর্তা বলেছেন, “আইআইটিতে যাঁরা পড়তে আসেন, তাদের মধ্যে যেমন টপার রয়েছে। তেমনই এমন ছাত্রও থাকেন, যাঁর জেইই স্কোর হয়তো তিন অঙ্কের। তাঁদের প্রত্যেকের পরিবার আলাদা, বেড়ে ওঠা আলাদা, পড়াশোনার পদ্ধতি আলাদা। হয়তো দেখা গেল যিনি টপার ছিলেন তিনি কোচিং-এ বাঁধাগতে পড়াশোনা করে ভাল ফল করলেও আইআইটিতে এসে সামলাতে পারছেন না। আবার যিনি হয়তো জেইই-তে ভাল নম্বর পাননি তিনি পড়াশোনা দ্রুত বুঝলেন। এঁদের প্রত্যেককেই সেই পুরনো অভ্যাস বদলানোর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। শিক্ষা ব্যবস্থাকেই সেই উদ্যোগ নিতে হবে।”

IIT Bombay BTech IIT

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy