জীববিজ্ঞানের অন্যতম আধুনিক শাখা হল জেনেটিক্স বা জিনবিদ্যা। ডিএনএ, আরএনএ এবং জিনের গাঠনিক পরিবর্তনের রহস্য উন্মোচন করছে এই বিদ্যা। আর তার মধ্য দিয়েই চিকিৎসাবিজ্ঞান থেকে শুরু করে কৃষি—সব ক্ষেত্রেই বেশ পরিবর্তন আনছে এই বিষয়টি। ভারতে গত কয়েক বছরে জৈবপ্রযুক্তি এবং জিন গবেষণার ব্যাপক প্রসারের ফলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছে জেনেটিক্স নিয়ে পড়াশোনা ও কেরিয়ার গড়ার নানা সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জীববিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসাবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে জেনেটিক্সকে। মানুষ অন্যান্য প্রাণীর থেকে কতটা উন্নত, কিংবা কী ভাবে বংশপরম্পরায় জিনগত পরিবর্তন হয়ে চলে একই পরিবারের কিছু সদস্যের মধ্যে— এই সব কিছুর রহস্য লুকিয়ে এই বিশেষ বিষয়ে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা
উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং জীববিজ্ঞান নিয়ে ন্যূনতম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা জেনেটিক্স নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে পারেন।
দেশে স্নাতক থেকে শুরু করে উচ্চতর গবেষণার একাধিক কোর্স রয়েছে—
স্নাতক: বিএসসি ইন জেনেটিক্স, বিএসসি ইন হিউম্যান জেনেটিক্স, বিএসসি ইন বায়োটেকনোলজি বা মলিকিউলার বায়োলজি পড়ার সুযোগ রয়েছে।
স্নাতকোত্তর: এমএসসি ইন জেনেটিক্স, এমএসসি ইন হিউম্যান জেনেটিক্স, এমএসসি ইন অ্যাপ্লায়েড জেনেটিক্স বা এমএসসি ইন মেডিক্যাল জেনেটিক্স পড়া যায়।
গবেষণা: পিএইচডি ইন জেনেটিক্স অ্যান্ড জেনোমিক্স করার সুযোগ থাকে।
দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠান
সর্বভারতীয় স্তরে অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়, পুণে বিশ্ববিদ্যালয় এবং হায়দরাবাদের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি পড়ার সুযোগ রয়েছে।
সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজি, ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস-এও জেনেটিক্স নিয়ে পড়া যায়।
রাজ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং আরজিকর বা এসএসকেএম-এর মতো সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে হিউম্যান জেনেটিক্স ও মলিকিউলার বায়োলজির পড়ার সুযোগ রয়েছে।
এই প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তির জন্য সিইউইটি-ইউজি, সিইউইটি-পিজি, আইআইটি-জ্যাম, গ্যাট-বি, নেট অথবা গেট-এর মতো জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।
আরও পড়ুন:
কাজের পরিসর ও সম্ভাবনা
জেনেটিক্স নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর দেশে ও বিদেশে চাকরির পথও উন্মুক্ত হয়। কাজের মূল পরিসরগুলি হল—
১। স্বাস্থ্যসেবা ও ডায়গনস্টিকস্: জেনেটিক ডিজ়অর্ডার, বিরল রোগ ও ক্যানসার শনাক্তকরণের জন্য ডায়গনস্টিক সেন্টার এবং হাসপাতালে ‘জেনেটিক কাউন্সেলর’ ও ‘ক্লিনিক্যাল জেনিটিসিষ্ট’-এর বেশ ভাল চাহিদা তৈরি হয়েছে।
২। ফার্মাসিউটিক্যাল ও বায়োটেক সংস্থা: বড় বড় ওষুধ তৈরি সংস্থা এবং বায়োটেক ফার্মে নতুন ওষুধ বা ভ্যাকসিনের গবেষণার জন্য জেনেটিসিষ্টদের প্রয়োজন হয়।
৩। কৃষি ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন: ফসলের উন্নত প্রজাতি উদ্ভাবন এবং গবাদি পশুর বংশগত মান বৃদ্ধির জন্য এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট (যেমন আইসিএআর)-এ কাজের সুযোগ থাকে।
৪। ফরেনসিক সায়েন্স: ফরেনসিক ল্যাবে ডিএনএ ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও অপরাধমূলক তদন্তের কাজে এই বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হয়।
৫। গবেষণা ও অধ্যাপনা: বিভিন্ন সরকারি ল্যাবরেটরি (যেমন সিএসআইআর, আইসিএমআর, ডিবিটি) এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে জুনিয়র রিসার্চ ফেলো, প্রজেক্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট বা শিক্ষক হিসাবে কাজ শুরু করা যায়।
গবেষণা বলছে, একবিংশ শতাব্দীর আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং কৃষি বিপ্লবের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে জিনবিজ্ঞানে। বিজ্ঞানমনস্ক প্রার্থীরা যদি শুরু থেকেই সঠিক লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যান, তবে জেনেটিক্স নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণার নানা ক্ষেত্রে যুক্ত হওয়ার সুযোগও মিলে যেতে পারে।