কম্পিউটারের ক্ষমতাকে আরও দ্রুত এবং জটিল সমস্যার সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে বিশ্বজুড়ে গুরুত্ব বাড়ছে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং-এর। প্রচলিত কম্পিউটারের বিট-এর বদলে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে কিউবিট ব্যবহার করা হয়। কোয়ান্টাম মেকানিক্স-এর বিভিন্ন নীতি কাজে লাগিয়ে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ক্রিপ্টোগ্রাফি, ওষুধের গবেষণা, অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপাদানবিজ্ঞান এবং অপ্টিমাইজ়েশন-এর মতো ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। ভারতেও এই ক্ষেত্রে গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
কী পড়তে হয়?
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং নিয়ে পড়াশোনার ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যা, গণিত, কম্পিউটার সায়েন্স এবং ইলেকট্রনিক্স-এর পড়াশোনা থাকা প্রয়োজন। উচ্চশিক্ষায় সাধারণত কোয়ান্টাম মেকানিক্স, কোয়ান্টাম ইনফরমেশন, কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম, কোয়ান্টাম কমিউনিকেশন, ক্রিপ্টোগ্রাফি, কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিং, কম্পিউটেশনাল পদ্ধতি এবং প্রোগ্রামিং-সহ আরও নানা বিষয় শেখানো হয়।
শুধু এই নয়, বর্তমানে কোয়ান্টাম সফটওয়্যার, সিমুলেটর এবং ক্লাউড ভিত্তিক কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যার নিয়েও কাজ শেখার সুযোগ রয়েছে। আইআইটি কানপুর-এর একটি সার্টিফিকেট প্রোগ্রাম-এও পাইথন, কিউআইএসকিট, ডেটা সায়েন্স, মেশিন লার্নিং এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সমন্বিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।
কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
কোয়ান্টাম কম্পিউটিং পড়ার জন্য একটিই নির্দিষ্ট শিক্ষাগত পথ নেই। বিজ্ঞান নিয়ে উচ্চমাধ্যমিকের পর পদার্থবিদ্যা, গণিত, কম্পিউটার সায়েন্স, ইলেকট্রনিক্স বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করে পরে কোয়ান্টাম টেকনোলজি-তে স্পেশ্যালাইজ়েশন করা যায়।
ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারাও এই ক্ষেত্রে যেতে পারেন। এআইসিটিই-র সহযোগিতায় ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশন-এর আওতায় বিটেক মাইনর ইন কোয়ান্টাম টেকনোলজি এবং এমটেক ইন কোয়ান্টাম টেকনোলজির পাঠক্রম তৈরি করা হয়েছে। ফলে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাশাপাশি কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে বিশেষ দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
গণিত ও পদার্থবিদ্যার ভিত শক্ত হলে সুবিধা হয়। পাশাপাশি পাইথন-এর মতো প্রোগ্রামিং ভাষা, অ্যালগরিদম এবং মেশিন লার্নিং সম্পর্কে ধারণা থাকলে এই ক্ষেত্রে এগোনো সহজ হতে পারে।
কোন কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ?
ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স বা আইআইএসসি বেঙ্গালুরু-তে ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশনের কোয়ান্টাম কম্পিউটিং থিম্যাটিক হাব তৈরি হয়েছে। এই হাবের সঙ্গে যুক্ত সরকারি ও জাতীয় গুরুত্বের প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে রয়েছে আইআইটি দিল্লি, আইআইটি কানপুর, আইআইটি রুরকি, আইআইটি বম্বে, আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি রোপার, আইআইটি গুয়াহাটি, আইআইটি পটনা, আইআইটি ইন্দোর, আইআইএসইআর তিরুঅনন্তপুরম, আইআইএসইআর পুণে, এনআইএসইআর ভুবনেশ্বর, আরআরআই বেঙ্গালুরু, টিআইএফআর মুম্বই, টিআইএফআর হায়দরাবাদ, জেএনসিএএসআর বেঙ্গালুরু এবং ইমএসসি চেন্নাই।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়াও আইআইটি বম্বে, আইআইএসসি বেঙ্গালুরু, আইআইটি কানপুর এবং আইআইটি দিল্লি-তে ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশনের অধীনে কোয়ান্টাম ফ্যাব্রিকেশন ও কেন্দ্রীয় গবেষণা পরিকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যার, ডিভাইস এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিং সংক্রান্ত গবেষণার পাশাপাশি ভবিষ্যতের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজও করা হবে।
তবে এই প্রতিষ্ঠানগুলির তালিকাকে সরাসরি ডিগ্রি কোর্সের তালিকা হিসাবে দেখা ঠিক নয়। কোথাও নির্দিষ্ট ডিগ্রি বা মাইনর কোর্স, কোথাও প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। ন্যাশনাল কোয়ান্টাম মিশনের অন্যতম লক্ষ্যই হল পড়ুয়া, গবেষক এবং অন্যান্য দক্ষ মানবসম্পদের জন্য হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বা দক্ষতা উন্নয়নের পরিকাঠামো তৈরি করা।
পেশাগত সুযোগ কী?
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের পড়াশোনা শেষ করে গবেষণা, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, কোয়ান্টাম অ্যালগরিদম, কোয়ান্টাম মেশিন লার্নিং, ক্রিপ্টোগ্রাফি, সাইবার সিকিউরিটি এবং কোয়ান্টাম হার্ডওয়্যার নিয়ে কাজের সুযোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে ব্যাঙ্কিং, প্রতিরক্ষা, মহাকাশ, স্বাস্থ্য, ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণা, লজিস্টিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রেও এই দক্ষতার ব্যবহার বৃদ্ধি হতে পারে।
কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এখনও অগ্রগতির পর্যায়ে থাকায় এই ক্ষেত্রে গবেষণা এবং উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব বেশি। তাই শুধু একটি স্বল্পমেয়াদি কোর্সের বদলে পদার্থবিদ্যা, গণিত, কম্পিউটার সায়েন্স বা ইলেকট্রনিক্স-এর মজবুত ভিত্তির সঙ্গে কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে বিশেষায়িত হওয়াই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর পথ হতে পারে।