শিক্ষাক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইমার্সিভ লার্নিং প্রযুক্তি তৈরি করতে এ বার যৌথ ভাবে উদ্যোগী হচ্ছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (আইআইটি) মাদ্রাজ এবং ইউনেস্কোর মহাত্মা গাঁধী ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন ফর পিস অ্যান্ড সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট (এমজিআইইপি)। সম্প্রতি দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এই সহযোগিতা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইউনেস্কো এমজিআইইপি-র সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা সংক্রান্ত দক্ষতার সঙ্গে আইআইটি মাদ্রাজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এক্সটেন্ডেড রিয়্যালিটি, গেম ডিজ়াইন এবং ইমার্সিভ প্রযুক্তির দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হবে বলে কর্ত়ৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউনেস্কো এমজিআইইপি-র অধিকর্তা ওবিজিওফর আগিনাম জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে সামাজিক ও মানবিক শিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো হবে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ইউনেস্কোর সুপারিশগুলিও গুরুত্ব পাবে। শিক্ষকদের পাঠ পরিকল্পনা, শিক্ষামূলক কার্যকলাপ এবং মূল্যায়নের সঙ্গে সামাজিক ও বৌদ্ধিক শিক্ষাকে বাস্তবে যুক্ত করলে, বিভিন্ন কাজে এই প্রযুক্তি তাঁদের সহায়তা করবে এবং কাজের চাপও কমাতে পারবে বলে আশা কর্তৃপক্ষের। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলি কম খরচে এবং কম ইন্টারনেট-গতির পরিবেশেও কার্যকর হবে বলে আশা করছেন নির্মাতারা। ফলে সবসময় নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগের উপর নির্ভরশীলতা কমবে পড়ুয়াদের।
এই সহযোগিতার মাধ্যমে এমন ডিজিটাল শিক্ষাপ্রযুক্তি তৈরি করা হবে, যা বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাব্যবস্থায় সহজে প্রয়োগ ও সম্প্রসারণ করা সম্ভব বলে জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগ রাষ্ট্রপুঞ্জের সুস্থায়ী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ৪.৭ নম্বর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, যেখানে শান্তিপূর্ণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুস্থায়ী সমাজ গঠনে শিক্ষার ভূমিকার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রযুক্তি তৈরির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রযুক্তি, শিক্ষাদানের পদ্ধতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং শিক্ষাবিজ্ঞান নিয়ে যৌথ গবেষণারও পরিকল্পনা রয়েছে। উদ্যোক্তরা জানিয়েছেন, দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও গবেষকদের মধ্যে আদানপ্রদান, কর্মশালা, সম্মেলন ও আলোচনাসভার পাশাপাশি ইমার্সিভ প্রযুক্তি, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষাবিজ্ঞানের সংযোগস্থলে আন্তঃবিষয়ক গবেষণাকেও উৎসাহিত করা হবে।