পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ উঠলে পড়ুয়াকে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা থেকে বার করে দেওয়া হবে না। বরং নতুন উত্তরপত্র দিয়ে তাঁকে বাকি পরীক্ষা শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে। এমনই একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি বম্বের আট সদস্যের বিশেষ কমিটি। সম্প্রতি দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের মৃত্যুর পর এই কমিটি তৈরি করা হয়েছিল। বুধবার আইআইটি বম্বের সিনেটের বিশেষ বৈঠকে কমিটির অন্তর্বর্তী রিপোর্ট পেশ করা হয়।
প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় কোনও পড়ুয়া নকল করছেন বলে পরিদর্শকের মনে হলে তিনি ঘটনাটি নথিবদ্ধ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র বাজেয়াপ্ত করবেন। তবে পড়ুয়াকে পরীক্ষা থেকে বার করে দেওয়া হবে না। নতুন উত্তরপত্র দিয়ে তাঁকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে নিজের বক্তব্য জানানোর সুযোগও দেওয়া হবে। তিনি লিখিত ভাবে নিজের ব্যাখ্যা জমা দিতে পারবেন। এর পর পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবে ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন কমিটি। অর্থাৎ, পরীক্ষার হলে পরিদর্শকের কাজ মূলত ঘটনা নথিবদ্ধ করা এবং প্রমাণ সংগ্রহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিদর্শক নেবেন না।
পাশাপাশি পরীক্ষার হলে কোনও ঘটনার পর পড়ুয়ার মানসিক অবস্থার দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। পরীক্ষা শেষ করে হল থেকে বেরোনোর পর সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে যাতে একা হয়ে যেতে না হয়, সে জন্য কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি হেল্পলাইনকে দ্রুত সতর্ক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
গত জুলাইয়ে পরীক্ষার হলে মোবাইল রাখার মতো ঘটনায় এক সেমেস্টার সাসপেনশন এবং পরীক্ষায় ফেল করানোর মতো কঠোর নিয়ম চালু হয়েছিল। বিশেষ কমিটির প্রস্তাব অনুযায়ী, সেই নতুন নিয়ম আপাতত স্থগিত রেখে ২০১৫ সালের পুরনো নিয়ম ফেরানো হবে।
আরও পড়ুন:
-
হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭টি বিষয়ে পিএইচডিতে ভর্তির সুযোগ, মোট ১৪৭টি আসনে আবেদনের শেষ দিন ১০ অক্টোবর
-
ফের বৃদ্ধি করা হল মেয়াদ, ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে এখনও উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ
-
জর্জিয়া থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ডিগ্রি পাওয়া পড়ুয়াদের উদ্বেগ এফএমজিই নিয়ে! যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষায় বসার শর্ত কী?
তবে পরীক্ষার হলে মোবাইল ফোন, স্মার্টওয়াচ, ইয়ারফোন-সহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যন্ত্র নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকছে। ব্যাগও পরীক্ষার হলে রাখা যাবে না। পরীক্ষার হলে নজরদারির জন্য সিসিটিভি ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
পরীক্ষা শুরুর পর দেরিতে আসা পড়ুয়াদের জন্যও নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পর আর কোনও পড়ুয়াকে হলে ঢুকতে দেওয়া হবে না। শৌচাগারে যাওয়ার ক্ষেত্রেও এক বারে এক জন পড়ুয়া যাওয়ার নিয়ম রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, নিয়মিত শারীরিক তল্লাশি বা ফ্রিসকিং বন্ধ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মিড-সেমেস্টার পরীক্ষার সময় মোবাইল রাখার অভিযোগে দ্বিতীয় বর্ষের বিটেক পড়ুয়া সাহিল ওয়াকোড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ওই দিনই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পর আইআইটি বম্বে ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের মধ্যে বিক্ষোভ শুরু হয়। এর পরেই পরীক্ষার নিয়ম এবং অসদুপায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত পড়ুয়াদের সঙ্গে কী ভাবে আচরণ করা হবে, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি তৈরি করা হয়।
সিনেটের সদস্যরা অন্তর্বর্তী রিপোর্টের মূল প্রস্তাবগুলিতে নীতিগত ভাবে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনের পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সেই পরিবর্তনগুলি বিবেচনা করে চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।