Advertisement
E-Paper

অবসরপ্রাপ্ত পুনর্নিযুক্ত কর্মীদের মেয়াদ শেষের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি যাদবপুরে, উপাচার্যকে চিঠি

শিক্ষক সমিতির বক্তব্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বিভাগে স্থায়ী শূন্যপদে কাজ করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যে কর্মীরা, তাঁদের ২০২৬ সালের নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। জুটার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১৬:৫৩
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ফাইল চিত্র।

অবসরপ্রাপ্ত চুক্তির ভিত্তিতে পুনর্নিযুক্ত কর্মীদের কাজের মেয়াদ আগামী নভেম্বর মাসে শেষ করার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তুললেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। কর্তৃপক্ষের কাছে এই মর্মে চিঠি দিয়েছেন তাঁরা।

জানা গিয়েছে, শুক্রবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (জুটা) সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান। তাদের আশঙ্কা, পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবরেটরি পরিচালনায় সমস্যা তৈরি হবে। ব্যাহত হতে পারে পঠনপাঠনও। যদিও কর্তৃপক্ষের তরফে আগেই দাবি করা হয়েছিল, ল্যাবরেটরির কাজে কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ অন্য ল্যাবরেটরি থেকে প্রাথমিক ভাবে কর্মী নিয়ে কাজ চালানো হবে।

শিক্ষক সমিতির বক্তব্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন বিভাগে স্থায়ী শূন্যপদে কাজ করছিলেন অবসরপ্রাপ্ত যে কর্মীরা, তাঁদের ২০২৬ সালের নভেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। জুটার অভিযোগ, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলিকে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে এই সিদ্ধান্তের আইনি বৈধতা এবং প্রশাসনিক উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। চিঠিতে জুটা স্পষ্ট জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রধান উপাচার্যের কর্তব্য আইন ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা।

শিক্ষক সমিতির দাবি, এই সিদ্ধান্তের সরাসরি প্রভাব পড়বে বিভিন্ন বিভাগের ল্যাবরেটরির পরিকাঠামোর উপরে। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকলে দৈনন্দিন কাজ সামলাতে সমস্যায় পড়বেন শিক্ষক এবং বিভাগীয় প্রধানেরা। বিশেষত পড়ুয়ারা, যাঁদের প্রতিদিন কাজ করতে হয়, তাঁদের উপরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে।

এই পরিস্থিতিতে কোনও ল্যাবরেটরির পরিষেবা যাতে কর্মীর অভাবে বন্ধ না হয়ে যায়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জুটা। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলির সঙ্গে অবিলম্বে আলোচনা করে কর্মীর প্রয়োজন নির্ধারণ এবং বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণেরও আর্জি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শূন্যপদগুলিতে দ্রুত নিয়োগের দাবি তুলেছে শিক্ষক সংগঠন।

অক্টোবরে গোড়ায় কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৭৬ জন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকে পুনর্নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁদের কাজের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর শেষ করা হচ্ছে। এর পর থেকে তাঁদের আর চাকরি থাকবে না। শিক্ষাকর্মীদের একাংশের দাবি, তাঁদের অনেকেরই মেয়াদ ছিল আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ ভাবে পুজোর আগেই চাকরি থেকে ছাঁটাইয়ের বিরোধিতা করেছিলেন অনেকেই।

তার কয়েকদিন পরে ফের একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, যে সব শিক্ষাকর্মীর মেয়াদ অক্টোবরের কোনও একটা দিন পর্যন্ত রয়েছে তাঁদের চুক্তি শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। পরবর্তী ক্ষেত্রে সকলেরই ৩০ নভেম্বরে চুক্তি শেষ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে যদি কারও মেয়াদ ৫ নভেম্বর পর্যন্ত হয় সে ক্ষেত্রেও তাঁর চাকরি থাকবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে তিনি ২৫ দিন বাড়তি সময় পেলেন। যাঁদের ডিসেম্বর পর্যন্ত মেয়াদ রয়েছে তাঁদেরও সকলের ৩০ নভেম্বরেই শেষ হবে। অর্থাৎ ৩০ নভেম্বরের পর থেকে আর কোনও ভাবেই ওই অবসরপ্রাপ্ত চুক্তিভিত্তিক শিক্ষাকর্মীরা চাকরি করতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্তকেই ফের পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।

JUTA JU

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy