কর্নাটকের কয়েকটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় ভাষার বিকল্প হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালু করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে কর্নাটকের ১,৬৪২টি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক-এর অধীনে এআই বিষয় চালু করা হচ্ছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলিতে এআই বিষয়ে অতিথি শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তার পরই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
সোমবার বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে হিতরক্ষণ বেদিকের নেতৃত্বে অবস্থান বিক্ষোভে যোগ দেন ২,০০০-এর বেশি শিক্ষক। তাঁদের দাবি, স্কুলে এআই শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্তকে স্বাগত, কিন্তু তৃতীয় ভাষার পরিবর্তে নয়। এতে কর্নাটকের বহুভাষিক শিক্ষাব্যবস্থার উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
প্রশাসনের কাছে তাঁরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। সেখানে বলা হয়েছে, ভাষা ও প্রযুক্তি— দুটিই পড়ুয়াদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই তৃতীয় ভাষার পরিবর্তে এআই চালু না করে এটিকে পৃথক দক্ষতাভিত্তিক অথবা ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে পড়ানো যেতে পারে।
শিক্ষক সংগঠনটি একই সঙ্গে রাজ্য সরকারের ১৪ জুলাইয়ের শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত খসড়া বিজ্ঞপ্তি নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত নিয়োগে ভাষা শিক্ষকের পদ মূলত কন্নড় ও ইংরেজির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সরকারি স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে পড়ানো হিন্দি, সংস্কৃত, উর্দু, তেলুগু, তামিল, মারাঠি, কোঙ্কনি, তুলু, মালয়ালম এবং আরবি ইত্যাদি অন্যান্য ভাষাগুলির শিক্ষক নিয়োগ এবং পড়ুয়াদের ভাষা শেখার সুযোগ প্রভাবিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটি তিনটি দাবি জানিয়েছে—
১। স্বীকৃত সমস্ত ভাষার জন্য উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ,
২। প্রতিটি ভাষায় পড়ুয়াদের সংখ্যার ভিত্তিতে পৃথক ভাষা-শিক্ষকের পদ তৈরি এবং
৩। তৃতীয় ভাষার পরিবর্তে এআই-কে না চালু করে একটি পৃথক বিষয় হিসেবেই চালু করা।
সংগঠনটির মতে, এতে পড়ুয়ারা এক দিকে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে, অন্য দিকে তাঁদের বহুভাষিক শিক্ষার ধারাও বজায় থাকবে।