সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে পঠনপাঠনের ধরন। লিঙ্গ নির্বিশেষে এখন প্রতিযোগিতার দৌড়ে শামিল সাম্প্রতিক প্রজন্ম। এই প্রতিযোগিতার মাঝেও ‘ভাল মানুষ’ তৈরি করার তাগিদে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হয়েছে লোরেটো ডে স্কুল, শিয়ালদহ।
শুধু মেয়েদেরই নয়, এ বার ছেলেদেরও বইয়ের পঠনপাঠনের পাশাপাশি মানবিকতার পাঠ দিতে চায় এই প্রতিষ্ঠান। সে জন্য ২০২৮ সাল থেকে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদেরও পড়ার সুযোগ দিচ্ছে এই প্রতিষ্ঠান।
তবে, ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই স্কুলে এই প্রথম ছেলেরাও পড়লেও কলকাতার লোরেটোর ইতিহাসে কিন্তু তা প্রথম নয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত জ্যোতি বসু তাঁর শৈশবে পড়েছিলেন ধর্মতলার লোরেটো স্কুলে। প্রি-প্রাইমারি বিভাগে কলকাতার বেশ কয়েকটি লোরেটোতেই মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদের পড়ার সুযোগ ছিল অনেক আগে থেকেই।
২০২৮ থেকে একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে মেয়েদের সঙ্গে ছেলেদেরও পড়ার সুযোগ দিচ্ছে লোরেটো ডে স্কুল, শিয়ালদহ।
লোরেটো এডুকেশন সোসাইটির সাউথ এশিয়ার ডিরেক্টর নন্দিনী ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, লোরেটো ঠাকুরপুকুর স্কুলে বরাবর চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত কো-এডুকেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি, ওই স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির পরিবর্তে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সহশিক্ষা অর্থাৎ কো-এডুকেশনের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তাই পরের বছর অর্থাৎ ২০২৭ থেকেই চতুর্থ শ্রেণির পরিবর্তে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের পাশাপাশি ছাত্ররাও পড়ার সুযোগ পাবে। নন্দিনীর কথায়, ‘‘লোরেটো মানেই যে শুধু মেয়েরাই পড়বে, তা নিয়ে একটা ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছে। এক সময় বেশ কিছু মেয়ের বাড়ির বাইরে গিয়ে পড়াশোনা করাটাই ছিল অনেক বড় বাধা। তবে সাম্প্রতিক, পরিস্থিতি তেমন নয়। লোরেটো শুধু পড়াশোনা নয়, ভাল মানুষ তৈরি করার লক্ষ্যেও কাজ করে। তাই এখন আলাদা করে শুধু মেয়েদের জন্য নয়, বরং ছেলেদেরও ভাল মানুষ তৈরির লক্ষ্যেও মূলত এই ভাবনা।’’
আরও পড়ুন:
২০২৮ থেকে পাঠ্যক্রম চালু হওয়ার কথা হলেও কত জন ছাত্র ভর্তি হতে পারবে সেই বিষয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের তরফে জানানো হয়েছে, বিজ্ঞান, কলা-সহ সব বিভাগের জন্য একাদশ-দ্বাদশে কো-এডুকেশন চালু করা হবে।