ভারতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, সেমিকন্ডাক্টর এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির উন্নয়নকে আগামী দিনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। এই ক্ষেত্রগুলিতে আরও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। আইআইটি মাদ্রাজ অ্যালুমনি অ্যাসোসিয়েশনের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, নতুন প্রযুক্তির সুবিধা পেতে ভারতকে দ্রুত প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার, দক্ষ কর্মী এবং পরিকাঠামো তৈরি করতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই বলা হয়, ভারত এআই-এর দৌড়ে পিছিয়ে পড়েছে। এর একটি কারণ হল, বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ বা ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ভারতীয় এআই সংস্থার সংখ্যা কম। তবে তাঁর বক্তব্য, বাস্তবে ভারতে অনেক এআই স্টার্টআপ রয়েছে, যাদের বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যেই ‘ইউনিকর্ন’ কোম্পানি (শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও ১০০ কোটি বা তার বেশি টাকার কোম্পানি) হয়েছে বা সেই পর্যায়ে পৌঁছোনোর পথে। কিছু স্টার্টআপ আইনি নিয়মকানুনের কারণে শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত হতে চাইছে না। তবে তালিকাভুক্ত হওয়ারও কিছু সুবিধা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
-
চার জনের পরীক্ষা বাতিলের পর তৎপর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ, চতুর্থ দিনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে, ক্যালকুলেটর না থাকায় সমস্যার অভিযোগ
-
ধারাবাহিক পাঠ্যক্রমে পড়ার পাশাপাশি সুযোগ রয়েছে কর্মসূচি, আলোচনাসভায় যোগদানের, কোথায়, কখন কবে?
-
গাইডেন্স অ্যান্ড কাউন্সেলিংয়ে ডিপ্লোমা করার সুযোগ, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল আবেদন প্রক্রিয়া
নির্মলা সীতারমণের মতে, এআই নিয়ে গবেষণা, শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার তৈরিতে আরও বিনিয়োগ দরকার। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি শিল্পের উৎপাদন বাড়াতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে ভারতীয় সংস্থাগুলি আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ভাল ভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। তাঁর বক্তব্য, এআই-তে বিনিয়োগ করা উচিত কি না, এখন আর সেটি মূল প্রশ্ন নয়। বরং কোথায় এবং কতটা বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেটাই গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে।
এআই ও সেমিকন্ডাক্টরের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা উৎপাদনেও বিনিয়োগ বাড়ানোর কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বিশেষ করে ড্রোন এবং চালকবিহীন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ভারতের বড় সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ভারত এখন শুধু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি করে না, বিভিন্ন দেশেও উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি করছে। বিশ্ববাজারে এই ধরনের প্রযুক্তির চাহিদা বাড়ায় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এই সুযোগ কাজে লাগানোর কথাও বলেছেন।