স্মার্ট বোর্ড এবং ডিজিটাল স্ক্রিনের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে খুদে পড়ুয়াদের চোখে এবং স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়ছে— দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকদের একাংশের তরফে এমনই অভিযোগ তোলা হচ্ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এ বার পদক্ষেপ করল নয়ডা ও গ্রেটার নয়ডা (গৌতম বুদ্ধ নগর) জেলা প্রশাসন।
জেলার সব সরকারি, সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি স্কুলের জন্য শিক্ষার্থীদের দৈনিক ‘স্ক্রিন টাইম’ বা ডিজিটাল স্ক্রিন ব্যবহারের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হল। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রাথমিক শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৩০ মিনিট এবং উচ্চ-প্রাথমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দিনে সর্বোচ্চ ৬০ মিনিট স্মার্ট বোর্ড বা স্ক্রিন ব্যবহার করা যাবে। প্রশাসন জানিয়েছে, স্মার্ট বোর্ড পাঠদানের একটি সহযোগী মাধ্যম মাত্র, কিন্তু এর অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত ব্যবহার পড়ুয়াদের শারীরিক স্বাস্থ্য, পড়াশোনা এবং খেলাধুলার উপর খারাপ প্রভাব ফেলছে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, স্মার্ট বোর্ড কেবল কঠিন বিষয়বস্তু বোঝানো, ছবি, ভিডিও কিংবা শিক্ষণীয় বিষয় প্রদর্শনের কাজেই ব্যবহার করতে হবে। আর রিভিশন, লেখালেখি, প্রশ্নোত্তর পর্ব কিংবা প্রাকটিক্যাল ক্লাসের জন্য প্রথাগত ব্ল্যাকবোর্ড, হোয়াইটবোর্ড বা গ্রিনবোর্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে এনসিইআরটি-র নির্দেশিকা এবং নিয়ম মেনে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চোখের বিশ্রামের ‘২০-২০-২০’ নিয়ম পালনের কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যের দিকে নজর রেখে এখন থেকে প্রতিটি স্কুলকে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে আই-চেকআপ বা চোখ পরীক্ষার শিবির করতে হবে এবং তার রিপোর্ট অভিভাবকদের কাছে পাঠাতে হবে। কোনও পড়ুয়ার চোখ জ্বালা, মাথা ব্যথা বা ঝাপসা দেখার সমস্যা থাকলে তা অভিভাবকদের জানাতে হবে। শুধু তা-ই নয়, স্কুলেই ‘ডিজিটাল ডিটক্স’, ‘ডিজিটাল-ফ্রি পিরিয়ড’ এবং ‘ডিজিটাল জিরো ডে’ পালনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বই পড়া, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কাজে বেশি করে উৎসাহী করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন।