সরকারি স্কলারশিপ ব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনছে কেন্দ্র। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই তা চালু হবে।
কেন্দ্রের নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, কোনও পড়ুয়া ওয়েলফেয়ার-ভিত্তিক স্কলারশিপ পাওয়ার পাশাপাশি মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য যোগ্য হলে তাঁকে মেধাভিত্তিক বৃত্তিও দিতে হবে। একইভাবে, মেধাভিত্তিক স্কলারশিপ পাওয়া কোনও পড়ুয়া ওয়েলফেয়ার-ভিত্তিক স্কলারশিপের যোগ্য হলে সেই বৃত্তিও শুধুমাত্র মেধা-ভিত্তিক স্কলারশিপ পাওয়ার কারণে বাতিল করা যাবে না।
সাধারণ ভাবে ‘এক পড়ুয়া-এক স্কলারশিপ’ নীতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। কিন্তু আর্থিক সহায়তা, প্রণোদনা ও বিভিন্ন ধরনের ছাত্র সহায়তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হয়। কারণ ‘স্কলারশিপ’ শব্দটি একই রকম ভাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। এই সমস্যার সমাধান করতে কেন্দ্র স্কলারশিপগুলিকে মূলত মেধাভিত্তিক এবং ওয়েলফেয়ার-ভিত্তিক— এই দুই ভাগে ভাগ করেছে।
মেধাভিত্তিক বৃত্তির মধ্যে রয়েছে এনএমএমএসএস, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য কেন্দ্রীয় ক্ষেত্রের স্কলারশিপ এবং ইনস্পায়ার। ওয়েলফেয়ার-ভিত্তিক বৃত্তির মধ্যে রয়েছে তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের প্রি-ম্যাট্রিক ও পোস্ট-ম্যাট্রিক স্কলারশিপ।
আরও পড়ুন:
আবেদন জমা ও সংশোধনের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। প্রথম আবেদনের সময় দেওয়া সাধারণ তথ্য পরবর্তী সব আবেদনে ফের ব্যবহার করা হবে। সাধারণ, শিক্ষাগত, প্রতিষ্ঠান বা কোর্স সংক্রান্ত তথ্য বদলাতে হলে আগে জমা দেওয়া সব আবেদন প্রত্যাহার করতে হবে পড়ুয়াকেই।
তথ্য যাচাইয়ের সময় প্রথম আবেদনে দেওয়া টিউশন ফি, ভর্তি ফি এবং অন্যান্য ফেরতযোগ্য নয় এমন ফি পরবর্তী আবেদনে স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলে আসবে। দ্বিতীয় বার যাচাইকরণের সময় পড়ুয়ার সব আবেদন এবং সেগুলির অবস্থা সংশ্লিষ্ট নোডাল অফিসার দেখতে পাবেন। অর্থাৎ, কোনও পড়ুয়া একই সময়ে একটি ওয়েলফেয়ার-ভিত্তিক এবং একটি মেধাভিত্তিক স্কলারশিপের জন্য আবেদন করলে দুই প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকই অন্য আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন।
এর ফলে একাধিক স্কলারশিপ আবেদনের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তবে কোনও আবেদনে সাধারণ বা শিক্ষাগত তথ্য সংক্রান্ত ত্রুটি থাকলে ওই পড়ুয়ার অন্যান্য আবেদনগুলিও বাদ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।