Advertisement
E-Paper

এনটিএ-র জন্য পৃথক আইন চাইল এসবিআই রিসার্চ, পরীক্ষাব্যবস্থায় একাধিক সংস্কারের প্রস্তাব!

সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সবার জন্য নিখরচায় ন্যায্য শিক্ষার সুযোগকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:৪৪
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) জন্য আলাদা আইন করার সুপারিশ করেছে এসবিআই রিসার্চ। এই সংস্থা পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন গভর্নিং বোর্ড, স্থায়ী পেশাদার কর্মী এবং পরীক্ষার মান নির্ধারণ করা ও পরীক্ষার্থীদের আবেদন খতিয়ে দেখার জন্য একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ভারতে পরীক্ষা ও উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আরও বড় ধরনের সংস্কারের অঙ্গ হিসেবেই এই প্রস্তাবগুলো করা হয়েছে।

বর্তমানে সোসাইটিজ় রেজিস্ট্রেশন আইনের অধীনে রয়েছে এনটিএ। এর পরিবর্তে এনটিএ-কে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে একটি বিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুপারিশ করেছে এসবিআই রিসার্চ। প্রস্তাবিত আইনটি ২০২৪ সালের ‘সরকারি পরীক্ষা (অসদুপায় প্রতিরোধ) আইন থেকে আলাদা হবে। চলতি আইনটির মূল উদ্দেশ্য হল, সরকারি পরীক্ষায় অসৎ উপায়, অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা।

এসবিআই রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত এনটিএ ২৪০টিরও বেশি পরীক্ষা পরিচালনা করেছে, যাতে ৫ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী যোগ দিয়েছেন। এই বিপুল কাজের জন্য সংস্থার দায়িত্ব, সঠিক পরিচালন কাঠামো, পরীক্ষা পরিচালনা এবং তাদের দায়বদ্ধতা স্পষ্ট ভাবে নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে মূল্যায়ন, প্রযুক্তি, পরীক্ষা নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং প্রবেশযোগ্যতা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এনটিএ বোর্ড গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই বোর্ড পরীক্ষা পরিচালনা, প্রস্তুতি পর্যালোচনা, সংস্থার উপর নজরদারি এবং পরীক্ষা সংক্রান্ত পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির কাজ তদারকি করবে। অন্যদিকে, এনটিএ-র ডিরেক্টর জেনারেল দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করলেও তাঁকে বোর্ডের অধীনেই কাজ করতে হবে বলে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি পরীক্ষা মূল্যায়ন, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা, পরিচালনা ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তার জন্য এনটিএ-র নিজস্ব স্থায়ী পেশাদার দল তৈরির কথাও বলা হয়েছে প্রতিবেদনে। গুরুতর ক্ষেত্রে পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রশাসনিক আপিল দেখার জন্য একটি স্বাধীন আপিল সংস্থা গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

চিনের ‘গাওকাও’ পরীক্ষাব্যবস্থা থেকে ভারত কিছু শিক্ষা নিতে পারে বলে এসবিআই রিসার্চের প্রতিবেদনে প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘গাওকাও’ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পরীক্ষাব্যবস্থা। বিশেষ করে, বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীকে নিয়ে পরীক্ষা আয়োজন, পরিচালনা ও বাস্তবায়নের মতো বিষয়ে চিনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কেবল পরীক্ষা সংস্কার নয়, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাতেও একাধিক পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে এসবিআই রিসার্চ। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করে সবার জন্য নিখরচায় ন্যায্য শিক্ষার সুযোগকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায় কি না, তা-ও খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষায় সরকারি ব্যয় ১ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার এবং শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ অর্থবর্ষে দেশে বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্বতন্ত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে ৬৪,৭৫৬ হয়েছে এবং পড়ুয়ার সংখ্যা ৪ কোটি ৫ লক্ষের বেশি। শিক্ষকের সংখ্যা প্রায় ১৭ লক্ষ ৩২ হাজার এবং মোট পড়ুয়ার প্রায় অর্ধেক ছাত্রী। কেন্দ্রীয় অর্থপুষ্ট প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত শিক্ষকপদের প্রায় ৩৪ শতাংশ শূন্য রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পের সঙ্গে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যোগসূত্র মজবুত করা এবং কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণেরও প্রস্তাব দিয়েছে এসবিআই রিসার্চ।

NTA

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy