খেলাধুলা এখন আর শুধু মাঠে অনুশীলন বা প্রতিযোগিতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। একজন খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্স বাড়ানো, চোট-আঘাতের ঝুঁকি কমানো, শারীরিক সক্ষমতা বিশ্লেষণ এবং প্রশিক্ষণের সঠিক পরিকল্পনা তৈরিতে বিজ্ঞানের ব্যবহার ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন শাখার সমন্বিত পড়াশোনাই স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ় সায়েন্স। ভারতে এই নামে সরাসরি স্নাতক কোর্স এখনও খুব বেশি প্রতিষ্ঠানে নেই। তবে স্পোর্টস সায়েন্স, এক্সারসাইজ় ফিজ়িয়োলজি, স্পোর্টস নিউট্রিশন, বায়োমেকানিক্স, স্পোর্টস সাইকোলজি এবং স্পোর্টস কোচিংয়ের মতো বিশেষায়িত বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
কী পড়তে হয়?
স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ সায়েন্সে মানবদেহের গঠন ও কার্যপ্রণালী থেকে শুরু করে খেলাধুলার সময় শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন হয়, তা বৈজ্ঞানিক ভাবে শেখানো হয়। অ্যানাটমি, ফিজ়িয়োলজি, এক্সারসাইজ ফিজ়িয়োলজি, স্পোর্টস বায়োমেকানিক্স, কাইনেসিয়োলজি, স্পোর্টস নিউট্রিশন, স্পোর্টস সাইকোলজি, স্পোর্টস ইনজুরি ও রিহ্যাবিলিটেশন, স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং, পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস এবং রিসার্চ মেথডোলজির মতো বিষয় এই ক্ষেত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভাগ।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজ়িক্যাল এডুকেশন, হেলথ এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টসের বিএসসি (অনার্স) পাঠ্যক্রমে অ্যানাটমি অ্যান্ড ফিজ়িয়োলজি এবং এক্সারসাইজ ফিজ়িয়োলজির পাশাপাশি বিভিন্ন খেলার ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের পাঠ দেওয়া হয়।
উচ্চশিক্ষায় এক্সারসাইজ ফিজ়িয়োলজির মতো নির্দিষ্ট বিষয়ে আরও গভীর ভাবে পড়ানো হয়। সেখানে বিভিন্ন পরিবেশে ব্যায়ামের সময় শরীরের প্রতিক্রিয়া, অ্যাথলিটদের শারীরিক সক্ষমতা, প্রশিক্ষণের সীমা এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যায়ামের প্রভাবের মতো বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করা হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোথায় পড়ার সুযোগ?
ভারতে এই ক্ষেত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠান হল ন্যাশনাল স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), মণিপুর। কেন্দ্রীয় সরকারের এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ স্পোর্টস সায়েন্স অ্যান্ড স্পোর্টস মেডিসিনে অ্যাপ্লায়েড ফিজ়িয়োলজি অ্যান্ড অ্যানাটমি, বায়োকেমিক্যাল সায়েন্স, স্পোর্টস সাইকোলজি, স্পোর্টস বায়োমেকানিক্স অ্যান্ড মুভমেন্ট সায়েন্সেস, প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেটিভ সায়েন্সেস এবং স্পোর্টস মেডিসিনের মতো বিভাগ রয়েছে।
এনএসইউ-তে সরাসরি স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ় সায়েন্স নামে কোর্স না থাকলেও বিএসসি ইন স্পোর্টস কোচিং, এমএসসি ইন স্পোর্টস কোচিং, বিপিইএস এবং এমপিইএস-এর মতো কোর্স রয়েছে। বিএসসি স্পোর্টস কোচিংয়ের চার বছরের পাঠ্যক্রমে কোচিং পদ্ধতির পাশাপাশি এক্সারসাইজ় ফিজ়িয়োলজিও পড়ানো হয়।
আরও একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হল স্পোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার নেতাজি সুভাষ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ স্পোর্টস (এনএসএনআইএস), পাতিয়ালা। এখানে স্পোর্টস সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। পিজি ডিপ্লোমা ইন এক্সারসাইজ ফিজ়িয়োলজি, স্পোর্টস নিউট্রিশন, স্পোর্টস সাইকোলজি, স্পোর্টস পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস এবং স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং-এর মতো কোর্সে ভর্তি হওয়া যায়।
কারা পড়তে পারেন?
কোর্স অনুযায়ী যোগ্যতাও পৃথক পৃথক। শারীরবিদ্যা, পুষ্টিবিজ্ঞান, ফিজ়িক্যাল এডুকেশন, স্পোর্টস বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পড়াশোনা থাকলে উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোর্সে আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্তো দেখে নেওয়া ভাল।
আরও পড়ুন:
পেশাগত সুযোগ কেমন?
স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ় সায়েন্স পড়ে স্পোর্টস পারফরম্যান্স, স্পোর্টস কোচিং, এক্সারসাইজ ফিজ়িয়োলজি, স্পোর্টস নিউট্রিশন, পারফরম্যান্স অ্যানালিসিস, স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং, স্পোর্টস সাইকোলজি এবং গবেষণার মতো ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। স্পোর্টস টিম, ফেডারেশন, স্পোর্টস অ্যাকাডেমি, ফিটনেস সেন্টার, গবেষণাগার এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও কাজের সম্ভাবনা রয়েছে।
এসআই-এর এনএসএনআইএস-এ স্পোর্টস সায়েন্সের অধীনে এক্সারসাইজ ফিজ়িয়োলজি, বায়োমেকানিক্স, স্পোর্টস সাইকোলজি, স্পোর্টস অ্যানথ্রোপোমেট্রি, বায়োকেমিস্ট্রি ও স্পোর্টস নিউট্রিশনের মতো বিভাগ রয়েছে। পাশাপাশি স্পোর্টস সায়েন্সে ইন্টার্নশিপের সুযোগও দেওয়া হয়। যেখানে গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকে।
তবে এই ক্ষেত্রে চাকরির বাজার ক্রমশ তৈরি হচ্ছে। তাই শুধু স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেটের বদলে বিষয়ভিত্তিক ডিগ্রি, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, গবেষণার দক্ষতা এবং ডেটা বিশ্লেষণের জ্ঞান থাকলে কেরিয়ারে বাড়তি সুবিধা মিলতে পারে। বিশেষ করে খেলাধুলার পাশাপাশি বিজ্ঞান, শরীরচর্চা, গবেষণা ও প্রযুক্তিতে আগ্রহ থাকলে স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ় সায়েন্স ভবিষ্যতের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পেশাজীবন সম্ভব।