দুই বন্ধুর বচসা থেকে রক্তারক্তি পরিস্থিতি। খোদ কলকাতার একটি স্কুলেই ঘটে গেল এমন ঘটনা। থানায় দায়ের হল অভিযোগ।
জানা গিয়েছে, সাউথ পয়েন্ট হাই স্কুলে এমনই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বুধবার। অভিযুক্ত নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। স্কুল সূত্রে খবর, বুধবার দুপুর ১২টা ২৯ মিনিট নাগাদ ক্লাসরুমে ক্লাসশিক্ষকের উপস্থিতিতেই এক ছাত্র তার এক সহপাঠীকে আচমকা ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে আক্রান্ত ছাত্রটি।
স্কুল থেকে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, আচমকা এই হামলার ফলে আহত ছাত্রটির শরীর থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। উপস্থিত শিক্ষকেরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর স্কুলের প্রবীণ শিক্ষক ও কর্মীরা দ্রুত তাকে কাছের হাসপাতালে ভর্তি করান। খবর পেয়ে আহত ছাত্রটির অভিভাবকেরাও হাসপাতালে পৌঁছোন। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ১৫ বছরের ওই পড়ুয়া গলায় গভীর ক্ষত এবং বাঁ হাতের একাধিক আঙুলে আঘাত নিয়ে ভর্তি হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল করার পর তাকে অস্ত্রোপচারকক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। প্লাস্টিক অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জন দীপাঞ্জন দে-র নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারের সময় দেখা যায়, গলার গভীর ক্ষত মুখ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে এবং নীচের পেশিতেও আঘাত লেগেছে। বাঁ হাতের তর্জনীতে এক্সটেনসর টেন্ডন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্য কয়েকটি আঙুলেও কেটে যাওয়ার ক্ষত ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সব ক্ষত মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই পড়ুয়ার অবস্থা স্থিতিশীল বলেই জানা গিয়েছে। আহত পড়ুয়ার মা এ দিন আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধিকে বলেন, ‘‘এখন সিটি স্ক্যান চলছে। ছেলের সঙ্গে ইশারায় কথা হয়েছে।’’
যদিও কী কারণে বচসা, তার সঠিক কোনও কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, বই নিয়ে কোনও বচসা শুরু হয়েছিল নবম শ্রেণির ওই দুই পড়ুয়ার মধ্যে। সেখান থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
আরও পড়ুন:
হামলাকারী ছাত্রটিকে ঘটনার পরেই ক্লাসরুম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্কুলের অভিজ্ঞ মনস্তত্ত্ববিদেরা ওই অভিযুক্ত ছাত্রকে কাউন্সিলিংও করেন। পরে তার বাবা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে সাউথ পয়েন্ট স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে গড়িয়াহাট থানায় একটি লিখিত রিপোর্ট দায়ের করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের থেকে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ধারায় মামলা রুজু করা হচ্ছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।
শ্রেণিকক্ষের মধ্যে এমন অনভিপ্রেত ও হিংসাত্মক ঘটনায় স্তম্ভিত সহপাঠী, শিক্ষক ও অভিভাবকমহল। স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রভাবিত অন্যান্য শিক্ষার্থীকে মানসিক ও আবেগজনিত ট্রমা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করা হবে। সব শিক্ষার্থী ও কর্মীর জন্য একটি নিরাপদ এবং সহানুভূতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেই জানানো হয়।