প্রবেশিকাগুলির প্রশ্নফাঁস রুখতে পরীক্ষাব্যবস্থায় একাধিক পরিবর্তন আনছে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। সেই উদ্যোগের অঙ্গ হিসেবে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, গবেষক, পেশাদার, শিক্ষক, অনুবাদক ও নিয়ামককে সংস্থার বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রশ্নপত্র তৈরি, অনুবাদ, যাচাই, সংশোধন, উত্তরসূচি পরীক্ষা, পাঠ্যক্রমের সঙ্গে প্রশ্নের সামঞ্জস্য নির্ধারণ এবং গবেষণার মতো একাধিক গোপনীয় দায়িত্ব সামলাবেন তাঁরা।
কোন কোন পরীক্ষা নেয় এনটিএ?
জেইই মেন, সিইউইটি (ইউজি ও পিজি), ইউজিসি নেট, সিএসআইআর নেট এবং নিটের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষা পরিচালনা করে এনটিএ। নিট বাদে বাকি পরীক্ষাগুলি কম্পিউটারভিত্তিক পরীক্ষা বা সিবিটি পদ্ধতিতে নেওয়া হয়।
সূত্রের খবর, গত মে মাসে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ এবং তা ঘিরে দেশ জুড়ে প্রতিবাদের পর এনটিএ-র সংস্কার প্রক্রিয়া আরও জোরদার হয়েছে। সেই সময় সংস্থার প্রায় ৬০০ জন বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ওখলা থেকে এনটিএ-র সদর দফতর সরিয়ে মিন্টো রোডের কেন্দ্রীয় সরকারি প্রেস ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের প্যানেল তৈরি
এনটিএ সম্প্রতি শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী, শিক্ষক ও অন্যান্য যোগ্য পেশাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের জন্য বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ এবং অনুবাদক হিসেবে প্যানেলভুক্ত হওয়ার আবেদন বা ‘এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট’ (ইওআই) নেওয়া হয়েছিল। গত মাসেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অনূদিত প্রশ্নপত্রের উপাদান যাচাইয়ের জন্য বিশেষজ্ঞ ও অনুবাদক নিয়োগের উদ্দেশ্যে একই ধরনের আবেদনপত্র নেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
চার ধাপে যাচাই, কোচিং সংস্থার সঙ্গে যুক্তদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা
এনটিএ-র আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞদের প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করার আগে চার স্তরের যাচাই করা হচ্ছে। প্রথমে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, যোগ্যতা, শিক্ষাগত নথি এবং কাজের অভিজ্ঞতা পরীক্ষা করা হয়। এর পর নথিপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতে গঠিত বিষয়ভিত্তিক কমিটি আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, গবেষণার কাজ এবং প্রশ্নপত্র তৈরির অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে।
এই ধাপগুলি পেরিয়ে যাঁরা প্রাথমিক ভাবে নির্বাচিত হন, তাঁদের সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নেওয়া হয়। কোনও আবেদনকারী কোচিং সংস্থার সঙ্গে যুক্ত কি না, কিংবা পড়ুয়াদের জন্য প্রশ্নভান্ডার তৈরির কাজে যুক্ত ছিলেন কি না, তা-ও যাচাই করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য তাঁদের একটি বিস্তারিত গোপনীয়তা চুক্তি বা ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট’ (এনডিএ)-এ স্বাক্ষরও করতে হয়।
কী ভাবে প্রশ্নফাঁস রোখার পরিকল্পনা?
এনটিএ একটি নিজস্ব বৃহৎ প্রশ্নভান্ডার তৈরি করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তৈরি, অনুবাদ ও যাচাই করলেও কোন প্রশ্নটি শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় আসবে, এমনকি সেটি কোন পরীক্ষার জন্য তৈরি হচ্ছে, তা-ও তাঁদের জানানো হবে না। প্রশ্নের সংখ্যা এতটাই বেশি রাখা হবে, যাতে কোনও প্রশ্নপ্রণেতা বা অনুবাদকের পক্ষে প্রশ্ন মুখস্থ করে বাইরে প্রকাশ করা কঠিন হয়।
এ ছাড়াও, কোনও নির্দিষ্ট প্রযুক্তি, প্ল্যাটফর্ম বা বেসরকারি পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থার উপর নির্ভরতা কমাতে ‘এগ্জ়াম-অ্যাগনস্টিক’ পদ্ধতি চালুর কাজ করছে এনটিএ। এর মাধ্যমে পরীক্ষার আয়োজন ও পরিচালনার গোটা প্রক্রিয়াকে আরও স্বনির্ভর এবং বিভিন্ন প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।