কিডনির কাজ অনেকটাই ঠিকঠাক না হলে শরীর থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত জল বের করে দিতে ডায়ালিসিসের প্রয়োজন হয়। এই চিকিৎসাপদ্ধতি পরিচালনায় চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে ডায়ালিসিস টেকনোলজিস্টের। ডায়ালিসিসের যন্ত্র প্রস্তুত করা, রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং চিকিৎসাশেষে প্রয়োজনীয় তথ্য নথিভুক্ত করার মতো কাজ করেন তাঁরা। ফলে স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে এই পেশার গুরুত্বও যথেষ্ট।
কী পড়তে হয়?
ডায়ালিসিস টেকনোলজি নিয়ে পড়তে চাইলে সাধারণত ডিপ্লোমা বা স্নাতক স্তরের অ্যালায়েড হেলথ কোর্স বেছে নেওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কোর্সের নাম হতে পারে ‘ডিপ্লোমা ইন ডায়ালিসিস টেকনোলজি’, ‘ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন ডায়ালিসিস টেকনোলজি’ বা সমতুল্য।
কিডনির গঠন ও কাজ, মানবদেহের শারীরবিদ্যা, রোগবিদ্যা, নেফ্রোলজি, হিমোডায়ালিসিস, ডায়ালিসিসের যন্ত্রপাতি ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ, রোগীর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে পড়ানো হয় কোর্সে। শুধু তত্ত্বগত পড়াশোনাই নয়, হাসপাতাল বা ডায়ালিসিস কেন্দ্রে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণও নিতে হয়।
কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
স্নাতক স্তরের ডায়ালিসিস টেকনোলজি কোর্স পড়তে হলে সাধারণত পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিদ্যা বিষয় নিয়ে উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে পাশ করতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নম্বরের শর্ত থাকে। কোথাও আবার প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। তবে ডিপ্লোমা এবং স্নাতক কোর্সের যোগ্যতা এক নয়। তাই যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা হবে, সেই প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট বছরের ভর্তিবিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা, বয়সসীমা, কোর্সের মেয়াদ এবং ভর্তির পদ্ধতি জেনে নেওয়া জরুরি।
আরও পড়ুন:
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোথায় পড়ার সুযোগ?
দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, সরকারি স্বাস্থ্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কেন্দ্রীয় সরকারি মেডিক্যাল প্রতিষ্ঠানে ডায়ালিসিস টেকনোলজি বা সংশ্লিষ্ট অ্যালায়েড হেলথ কোর্সের সুযোগ রয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর একই নামে কোর্স চালু থাকে না।
বিলাসপুর (হিমাচল প্রদেশ) ও ঋষিকেশের (উত্তরাখণ্ড) অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, চণ্ডীগড়ের পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, শিমলার ইন্দিরা গান্ধী মেডিক্যাল কলেজ, পুদুচেরির ইউনিভার্সিটি কমিউনিটি কলেজ, কলকাতার ইনস্টিটিউট অফ পোস্টগ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ-সহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে।
রাজ্যভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্য বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজগুলির ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতেও সংশ্লিষ্ট অ্যালায়েড হেলথ কোর্সের তথ্য পাওয়া যায়। তাই শুধু প্রতিষ্ঠানের নাম দেখে নয়, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বছরের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ডায়ালিসিস টেকনোলজি কোর্স চালু রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
চাকরির সুযোগ কী ভাবে?
কোর্স শেষ করার পর সরকারি হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়ালিসিস সেন্টার এবং নেফ্রোলজি বিভাগে কাজের সুযোগ তৈরি হয়। ডায়ালিসিস টেকনিশিয়ান বা ডায়ালিসিস টেকনোলজিস্ট হিসেবে রোগীর ডায়ালিসিস প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তিগত সহায়তা করা যায়।
সরকারি ক্ষেত্রে নিয়োগের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল, স্বাস্থ্য দফতর, মেডিক্যাল কলেজ বা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়োগবিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখতে হয়। বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়ালিসিস কেন্দ্রেও সরাসরি নিয়োগের সুযোগ থাকে। অভিজ্ঞতা এবং অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ থাকলে বিশেষায়িত নেফ্রোলজি ও ডায়ালিসিস পরিষেবায় কাজের ক্ষেত্র আরও বাড়তে পারে।
তবে এই পেশায় শুধু যন্ত্র পরিচালনার দক্ষতা যথেষ্ট নয়। রোগীর সঙ্গে যোগাযোগ, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা এবং চিকিৎসক ও নার্সিং দলের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার ক্ষমতাও থাকতে হয়।