কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র বা বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাজের সময় দুর্ঘটনারোধ, কর্মীদের নিরাপত্তা এবং ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রয়োজন হয় প্রশিক্ষিত নিরাপত্তাকর্মীর। এর জন্যই তৈরি হয়েছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ। যাঁদের প্রযুক্তি, কারখানার কাজের পরিবেশ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য পেশার একটি বিশেষ ক্ষেত্র।
কী পড়তে হয়?
ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি কোর্সে মূলত কর্মক্ষেত্রে কী ধরনের ঝুঁকি থাকতে পারে এবং সেই ঝুঁকি কী ভাবে চিহ্নিত ও নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা শেখানো হয়। এর মধ্যে থাকে সেফটি ম্যানেজমেন্ট, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, অগ্নিনিরাপত্তা, রাসায়নিক নিরাপত্তা, শিল্পক্ষেত্রে স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, ঝুঁকি মূল্যায়ন, নিরাপত্তা অডিট, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের ব্যবহার ইত্যাদি। বিভিন্ন কোর্সে কারখানা পরিদর্শন, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, প্রকল্প এবং ল্যাবরেটরি কাজও থাকে।
কোথায় পড়ার সুযোগ?
কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকের অধীন ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফ্যাক্টরি অ্যাডভাইস সার্ভিস অ্যান্ড লেবার ইনস্টিটিউট বা ডিজিএফএএসএলআই-এর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। ২০২৬-২৭ সালের প্রশিক্ষণসূচি অনুযায়ী, মুম্বইয়ের সেন্ট্রাল লেবার ইনস্টিটিউটে অ্যাডভান্স ডিপ্লোমা ইন ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি, চেন্নাইয়ে ডিপ্লোমা, ফরিদাবাদ ও কানপুরে পোস্ট ডিপ্লোমা এবং কলকাতার রিজিয়োনাল লেবার ইনস্টিটিউটে অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমা চালু রয়েছে। শিলঙেও এক বছরের অ্যাডভান্সড ডিপ্লোমার ব্যবস্থা রয়েছে।
কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
যোগ্যতা কোর্স ও প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী আলাদা। ডিজিএফএএসএলআই-এর ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি কোর্সে সাধারণত ইঞ্জিনিয়ারিং বা টেকনোলজির ডিগ্রি, ডিপ্লোমা অথবা নির্দিষ্ট বিজ্ঞান বিষয়ে ডিগ্রি থাকা প্রয়োজন। কলকাতার ক্ষেত্রে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও অঙ্ক-সহ বিজ্ঞান বিভাগের স্নাতকরাও নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদন করতে পারেন। কিছু কোর্সে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাও প্রয়োজন হয়।
দশমের পরেও সরাসরি ফায়ার টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ম্যানেজমেন্ট-এর মতো কারিগরি কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ট্রেনিং-এর এই কোর্সের মেয়াদ এক বছর এবং ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা দশম উত্তীর্ণ।
আরও পড়ুন:
পেশাগত সুযোগ কেমন?
এই কোর্স শেষ করে সেফটি অফিসার, সেফটি সুপারভাইজার, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি প্রফেশনাল, সেফটি অডিটর-এর মতো কাজে সুযোগ তৈরি হতে পারে। উৎপাদনশিল্প, রাসায়নিক ও পেট্রোকেমিক্যাল কারখানা, নির্মাণক্ষেত্র, বিদ্যুৎ, বন্দর, খনি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ শিল্পে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। ডিজিএফএএসএলআই জানিয়েছে, তাদের এক বছরের ইন্ডাস্ট্রিয়াল সেফটি ডিপ্লোমা কোর্সের উদ্দেশ্যই হল যোগ্য নিরাপত্তা অফিসার তৈরি করা।
তবে এই পেশায় শুধু ডিগ্রি থাকলেই হবে না। ঝুঁকি চিহ্নিত করার দক্ষতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শিল্পক্ষেত্রের নিয়মকানুন সম্পর্কে জ্ঞান এবং বাস্তব পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেফটি ম্যানেজমেন্ট ও পেশাগত দায়িত্বের পরিধিও বাড়তে পারে।