সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের পর রাজ্যের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষকদের জন্য টেট বাধ্যতামূলক কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। কোন স্তরের শিক্ষককে চাকরি বজায় রাখার জন্য টেট পাশ করতে হবে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়ে রাজ্যের স্কুল শিক্ষা দফরের চিঠি দিল শিক্ষক সংগঠনের একাংশ।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির তরফে পাঠানো ওই চিঠিতে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, স্কুল শিক্ষা দফতরের তরফে ইতিমধ্যেই স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদকে টেট আয়োজনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রাজ্যের বিভিন্ন ধরনের স্কুলে কর্মরত শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার নিয়ম কী হবে, তা নিয়ে স্পষ্ট নির্দেশ না থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা দফতরের কাছে সাতটি বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, জুনিয়র হাই স্কুলের স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের চাকরি বজায় রাখতে টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই ভাবে জুনিয়র হাই স্কুলের নর্মাল সেকশনে অনুমোদিত স্নাতক শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও টেট দেওয়া বাধ্যতামূলক কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয়ত, সমন্বিত উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নর্মাল সেকশনে কর্মরত স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও টেট পাশের নিয়ম কী হবে, তা জানতে চেয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সাধারণ নর্মাল সেকশনে কর্মরত স্নাতক শিক্ষকদের জন্য টেট বাধ্যতামূলক কি না এবং সেখানে অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে কি না, তা স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
এ ছাড়াও জুনিয়র হাই স্কুলে বদলি হয়ে আসা সাধারণ শিক্ষক এবং জুনিয়র হাই স্কুল থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়া শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট-এর নিয়ম কী হবে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। আগে থেকেই ৯০ নম্বর পেয়ে টেট উত্তীর্ণ শিক্ষকদের আবার নতুন করে পরীক্ষায় বসতে হবে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে সংগঠনটি।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “এই বিষয়গুলিতে স্পষ্ট নির্দেশ না থাকায় বহু শিক্ষকের মধ্যে চাকরির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাই সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা যাতে তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন, সে জন্য স্কুল শিক্ষা দফতরকে দ্রুত প্রতিটি প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর এবং স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রকাশ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।”