টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনায় সর্বশেষ গ্রেফতার করা হয়েছে হরিয়ানার বাসিন্দা প্রাঞ্জল ঠাকরলকে। ২২ বছর বয়সি যুবককে গ্রেফতার করেছে মুম্বই পুলিশের অপরাধদমন শাখা। পুলিশ সূত্রে খবর, লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠীর সদস্য অনিল পণ্ডিতের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল প্রাঞ্জলের। টাইগারের উপর হামলার দায় স্বীকার করেছিল অনিল। তদন্তকারীদের দাবি, হামলাকারীদের হাতে দেশি পিস্তল তুলে দিয়েছিলেন প্রাঞ্জল। পাশাপাশি, হামলার জন্য প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা এবং আর্থিক বা অপারেশনাল সাহায্যও করেছিলেন তিনি।
শনিবার ইন্দৌর থেকে গ্রেফতার করা হয় ২২ বছর বয়সি প্রাঞ্জলকে। পরে তাঁকে মুম্বইয়ে নিয়ে এসে রবিবার আদালতে পেশ করা হয়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত তাঁকে অপরাধদমন শাখার হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
তবে টাইগারের উপর হামলার ঘটনায় প্রাঞ্জলের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। প্রাঞ্জলের কাকা সুরেশ কুমার জানিয়েছেন, ইন্দৌরের একটি হাসপাতালে ভাইয়ের সঙ্গে ছিলেন প্রাঞ্জল। পুলিশ তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গিয়েছিল। পরে জানানো হয়, তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুরেশ বলেন, “আমরা খুব শীঘ্রই একজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মুম্বইয়ে যাব।”
১৮ অক্টোবর জুহুর একটি ক্লাবে ফুটবল খেলে বেরোনোর সময় টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই বন্দুকবাজ। গুলির আঘাত থেকে রক্ষা পান অভিনেতা। তবে হামলায় আহত হন তাঁর গাড়ির চালক এবং এক ভ্লগার। হামলার পর ঘটনাস্থলে অপেক্ষা করে থাকা এক বাইকচালকের সঙ্গে পালিয়ে যায় দুই বন্দুকবাজ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, তিন জন প্রথমে অন্ধেরীতে বাইকটি ফেলে দেয়। সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে কান্দিবলী পৌঁছোয় তারা। এর পর একটি ট্যাক্সিতে চেপে সুরতে যায় অভিযুক্তেরা।
আরও পড়ুন:
সুরতে রেললাইনের ধারে ঝোপের মধ্যে দু’টি পিস্তল ফেলে দেয় তারা। এর একটি তুরস্কে তৈরি জিগানা পিস্তল, অন্যটি দেশি পিস্তল, যা ‘কাট্টা’ নামে পরিচিত। এর পর ট্রেনে চেপে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় তিন জন। কিন্তু ১৯ অক্টোবর কোটা স্টেশনে তাদের আটক করে গ্রেফতার করা হয়।
শনিবার এক জন অভিযুক্ত সুরতে রেললাইনের ধারের ঝোপটি দেখিয়ে দেয়। সেই ঝোপে লুকিয়ে রাখা ওই দু’টি পিস্তল উদ্ধার করে পুলিশ। সঙ্গে পাওয়া যায় ১০টি তাজা কার্তুজ।
৩১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রাঞ্জলকে হেফাজতে চেয়ে আদালতে পুলিশ জানায়, হামলাকারীদের কাছে অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় তাঁর ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পাশাপাশি, অনিলের সঙ্গে কী ভাবে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল, তা-ও তদন্ত করে দেখতে চায় পুলিশ। আদালতে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার সময় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১১১ নম্বর ধারাও প্রয়োগ করেছে তদন্তকারী সংস্থা। এই ধারাটি সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আরও পড়ুন:
তদন্তকারীদের দাবি, আগে গ্রেফতার হওয়া ১০ জন অভিযুক্তের মধ্যে কুণাল নামে এক জনের সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল প্রাঞ্জলের। পানীপতে গুলি চালানোর একটি ঘটনার তদন্তেও এর আগে প্রাঞ্জল এবং কুণালের নাম উঠে এসেছিল। টাইগারের উপর হামলার তদন্তে সেই ঘটনার যোগসূত্রও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
অন্য দিকে, প্রাঞ্জলের পরিবারের দাবি, তিনি ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। চিকিৎসা চলাকালীন ভাইয়ের দেখাশোনা করার জন্যই ইন্দৌরে ছিলেন তিনি। এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া ১১ জন অভিযুক্তের মধ্যে আট জনই হরিয়ানার সোনীপত জেলার বাসিন্দা।