তামিল ভাষার প্রতি নতুন প্রজন্মের আগ্রহ কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেতা ধনুষ। তাঁর মতে, ইংরেজি শেখা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে নিজের মাতৃভাষাকে কখনও তার জন্য পিছনে ফেলে রাখা উচিত নয়। তামিল ভাষা পড়তে, লিখতে ও বলতে পারাকে গর্বের বিষয় বলেই মনে করেন তিনি।
সম্প্রতি চেন্নাইয়ের একটি স্কুলে গিয়েছিলেন ধনুষ। এই স্কুলেই তাঁর শৈশবের পড়াশোনা। পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় নিজের ছাত্রজীবনের নানা স্মৃতির পাশাপাশি মাতৃভাষার গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন তিনি। ধনুষ জানান, ছোটবেলায় ইংরেজিতে তিনি স্বচ্ছন্দ ছিলেন না। প্রায়ই ভুল করতেন। কিন্তু তামিলে কথা বলতে কোনও অসুবিধা হত না। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এখন অনেক পড়ুয়াই ইংরেজিতে সাবলীল হলেও তামিল পড়তে বা লিখতে পারে না। এই প্রবণতা তাঁকে হতাশ করে।
অভিনেতার বক্তব্য, ইংরেজি আন্তর্জাতিক যোগাযোগের জন্য দরকারি ভাষা। কিন্তু তাই বলে নিজের ভাষার গুরুত্ব কমে যাওয়া উচিত নয়। বরং আগে মাতৃভাষায় দক্ষ হওয়া জরুরি, তার পর অন্য ভাষা শেখা উচিত। একটি বিদেশ সফরের অভিজ্ঞতার কথাও শোনান ধনুষ। বেলজিয়ামে একটি ফরাসি ছবির শুটিংয়ের সময়ে তিনি দেখেছিলেন, সেখানকার মানুষ প্রথমে নিজেদের ভাষাকেই বেশি গুরুত্ব দেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাঁকে আরও বেশি করে নিজের ভাষার মূল্য বুঝিয়েছে বলে জানান অভিনেতা।
আরও পড়ুন:
পড়ুয়াদের উদ্দেশে ধনুষ বলেন, “শুধু তামিলে কথা বললেই হবে না, ভাষাটি পড়া ও লেখাও শিখতে হবে।” নিজের মাতৃভাষা না জানাকে কখনও গর্বের বিষয় হিসাবে দেখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই অনুষ্ঠানে নিজের তামিল শিক্ষকের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ধনুষ। তাঁর কথায়, একজন শিক্ষক শুধু ভাষা শেখান না, সেই ভাষার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের সঙ্গেও ছাত্রছাত্রীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এ দিন স্কুলের নতুন তিনতলা ভবনেরও উদ্বোধন করেন অভিনেতা। ভবনটি সংস্কারের জন্য ধনুষ আর্থিক সহায়তা করেছিলেন। তাঁর অবদানের স্বীকৃতি হিসাবে ভবনটির নাম রাখা হয়েছে ‘ধনুষ ব্লক’।
ধনুষের এই মন্তব্য বর্তমানে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। তামিলনাড়ুতে ভাষা ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা নতুন করে জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা জল্পনা শোনা যাচ্ছে। যদিও স্কুলের অনুষ্ঠানে ধনুষের বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল মাতৃভাষা, শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক শিকড়কে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা।