Advertisement
E-Paper

মাত্র ২৭ বছরে ধরা পড়ে ব্রেন টিউমার! কী ভাবে নিজেকে সামলান সইফ-সোহার বোন সাবা?

সম্প্রতি বোন সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এর একটি পর্বে নিজের সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নেন সাবা আলি খান।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ অক্টোবর ২০২৬ ১৩:৩৮
মানসিক টানাপড়েন নিয়ে কী বলেন সোহা-সইফের বোন সাবা?

মানসিক টানাপড়েন নিয়ে কী বলেন সোহা-সইফের বোন সাবা? ছবি: সংগৃহীত।

মাত্র ২৭ বছর বয়সে ব্রেন টিউমার ধরা পড়েছিল অভিনেতা সইফ আলি খানের বোন সাবা পটৌদীর। ২০০৬ সালে অস্ত্রোপচারও করাতে হয় তাঁকে। সম্প্রতি বোন সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এর একটি পর্বে নিজের সেই কঠিন অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন সাবা। মস্তিষ্কের টিউমার এবং সুস্থ হয়ে ওঠার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনায় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক মাজ়দা তুরেল। সেখানেই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে রোগ নির্ণয় পর্যন্ত গোটা ঘটনার কথা তুলে ধরেন সাবা।

প্রথম কী ভাবে বুঝতে পেরেছিলেন যে, শরীরে কোনও সমস্যা হচ্ছে? শর্মিলা ঠাকুরের বড়মেয়ে জানান, সব কিছু যেন আচমকাই ঘটে যায়। আগে থেকে কোনও উপসর্গ ছিল না, যা দেখে বিপদের আঁচ করতে পারতেন তিনি। তাঁর কথায়, “ঘটনাটা খুব আকস্মিক ছিল। এর আগে আমার কোনও উপসর্গ বা এমন কোনও শারীরিক সমস্যাও ছিল না, যা থেকে মনে হতে পারে যে, এমন কিছু ঘটতে চলেছে। একদিন বাইরে বেরিয়েছিলাম। প্রথমে মনে হয়েছিল, পেটের কোনও সমস্যা হচ্ছে। আমার পেট বরাবরই একটু সংবেদনশীল। ভেবেছিলাম, এমন কিছু খেয়েছি বা পান করেছি, যা শরীরে সহ্য হচ্ছে না।”

এর পরেই আচমকা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি। সাবা বলেন, “হঠাৎ খুব অস্বস্তি হতে শুরু করে। বন্ধুকে বলেছিলাম, ‘মনে হচ্ছে শরীরটা ঠিক নেই। বরং বাড়ি ফিরে যাই।’ বেরোতে যাব, হঠাৎ সব কিছু অন্ধকার হয়ে গেল। যখন জ্ঞান ফিরল, তখন দেখলাম, বিল্ডিংয়ের ঠিক বাইরের রাস্তায় পড়ে রয়েছি। বন্ধুকে আবার বললাম, 'আমাদের ফিরে যেতে হবে'। কারণ, আমি যে একেবারেই ভাল নেই, তা বুঝতে পারছিলাম। পুরোপুরি সচেতন বোধ করতে প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লেগেছিল। তার পরেও মাথাটা ঝিমঝিম করছিল, চারপাশের পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারছিলাম না।”

এর পরেই দ্রুত এমআরআই করান সাবা। পরীক্ষায় তাঁর মস্তিষ্কের থার্ড ভেন্ট্রিকলে একটি ছায়ার মতো অংশ দেখতে পান চিকিৎসকেরা। পরে ধরা পড়ে একটি কোলয়েড সিস্ট— যা বিরল হলেও ক্যানসারবিহীন এবং জেলির মতো তরলে পূর্ণ একটি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। এমআরআই করানোর প্রায় ছয় মাস পরে অস্ত্রোপচার হয় তাঁর। সাবার কথায়, সেটি পাইলোসাইটিক অ্যাস্ট্রোসাইটোমা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। এটি এক ধরনের ব্রেন টিউমার, যাকে সাধারণত নিম্ন-গ্রেডের টিউমার হিসেবে ধরা হয়।

এত অল্প বয়সে এমন রোগের কথা শুনতে হবে, স্বাভাবিক ভাবেই ভাবেননি সাবা। তিনি বলেন, “২৭ বছর বয়সে কোনও রকম পূর্বাভাস ছাড়াই আমার জীবনে এমন ঘটনা ঘটেছিল। তার পর জীবনটা যেন হঠাৎ থমকে যায়। কোনও কিছুই আর স্বাভাবিক মনে হয় না। একদিন আপনি সুস্থ, আর পরের দিনই জানতে পারছেন যে আপনার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করতে হবে! বিষয়টা অ্যাপেন্ডিক্স বাদ দেওয়ার মতো সহজ নয়। এমন অভিজ্ঞতা ভিতর থেকে ভেঙে দেয়। তবে একই সঙ্গে শক্তিও জোগায়, কারণ পরিস্থিতির মোকাবিলা করা ছাড়া আর কোনও উপায় থাকে না।”

সেই সময়ের মানসিক টানাপড়েনের কথাও জানিয়েছেন তিনি। সাবার কথায়, “কখনও কখনও কোনও কারণ ছাড়াই হঠাৎ কেঁদে ফেলতাম। এমন একটা খবর মেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলাম, যা পাওয়ার কথা কখনও ভাবিনি। আমার সঙ্গে যা ঘটেছিল, তার আগাম কোনও ইঙ্গিতই ছিল না।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে নিজের ৫০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করেন সাবা। পরিবারের সঙ্গে জন্মদিনের মুহূর্ত ভাগ করে নিয়ে সমাজমাধ্যমে একাধিক পোস্ট করেছিলেন তিনি। পরিবারের ভালবাসা এবং তাঁদের দেওয়া বিশেষ উপহারের জন্য কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন সইফের বোন।

Soha Ali Khan Saif Ali Khan Saba Ali Khan Brain Tumour

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy