Advertisement
E-Paper

বিজেপি নেতার আপত্তি, দীয়া মির্জ়ার বাজি-বিরোধী ভিডিয়ো মুছে দিল বৃহন্মুম্বই পুরসভা!

বিজেপির মুম্বই শাখার সভাপতি অমিত সাটম বৃহন্মুম্বই পুরসভার তরফে দীয়া মির্জ়ার ভিডিয়ো পোস্ট করার বিরোধিতা করেন। তার পরেই ভিডিয়োটি সরিয়ে নেওয়া হয়। যদিও কোনও কারণ জানায়নি বিএমসি।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০২ নভেম্বর ২০২৬ ১৩:৫৮
দীয়া মির্জ়া।

দীয়া মির্জ়া। ছবি: সংগৃহীত।

অভিনেত্রী দীয়া মির্জ়ার বাজি-বিরোধী ভিডিয়োবার্তা ঘিরে বিতর্কের জের। শেষপর্যন্ত সমাজমাধ্যমের থেকে সেই ভিডিয়ো সরিয়ে নিল বৃহন্মুম্বই পুরসভা (বৃহন্মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন)। তবে অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত, ক্রিকেটার অজিঙ্ক রাহানে এবং মরাঠি অভিনেত্রী নিশিগন্ধা ওয়াডের মতো তারকার একই ধরনের বার্তা এখনও সমাজমাধ্যমে রয়েছে।

বিজেপির মুম্বই শাখার সভাপতি অমিত সাটম বৃহন্মুম্বই পুরসভার তরফে দীয়ার ভিডিয়ো পোস্ট করার বিরোধিতা করেন। তার পরেই ভিডিয়োটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

ওই ভিডিয়োয় সাধারণ মানুষের কাছে বাজি না ফাটানোর আবেদন জানিয়েছিলেন দীয়া। তাঁর বক্তব্য ছিল, বাজির মাধ্যমে শব্দদূষণ বাড়ানো থেকে বিরত থাকা উচিত।

বৃহন্মুম্বই পুরসভাকে ট্যাগ করে একটি পোস্টে অমিত লেখেন, “দীয়ার কাছ থেকে দীপাবলি কী ভাবে পালন করতে হবে, সে বিষয়ে আমাদের কোনও উপদেশের প্রয়োজন নেই। আমাদের সংস্কৃতির শিকড় অনেক গভীরে প্রোথিত।”

এর পরেই পুরসভার সমাজমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিয়োটি সরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও কেন এই পদক্ষেপ করা হল, সে বিষয়ে বৃহন্মুম্বই পুরসভার তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

উৎসবের মরসুমে বায়ুদূষণ বৃদ্ধি এবং বাজি ফাটানো নিয়ন্ত্রণে পুরসভার ব্যর্থতা নিয়ে বম্বে হাই কোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। আদালতের ১৫ অক্টোবরের নির্দেশ অনুযায়ী, উৎসবের সময়ে প্রকাশ্য রাস্তা, সড়ক, গলি ও ফুটপাথে বাজি ফাটানো নিষিদ্ধ। হাসপাতাল, সরকারি দফতর, আদালত ও স্কুলের মতো নীরব এলাকায় বাজি ফাটানোয় সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কম শব্দ ও কম বায়ুদূষণকারী গ্রিন ক্র্যাকার ব্যবহারে উৎসাহ দিতে বলা হয়। জনসচেতনতা প্রচারে তারকাদের যুক্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে বলে আদালত। তার পরেই বাজি-বিরোধী প্রচারে একাধিক তারকাকে যুক্ত করেছিল বৃহন্মুম্বই পুরসভা। সেই কাজে যোগ দেওয়ার জন্য তারকাদের কোনও পারিশ্রমিক নেওয়া উচিত নয় বলেও ২৬ অক্টোবর পৃথক শুনানিতে মন্তব্য করেছিল আদালত।

আদালতের পর্যবেক্ষণের পরেই বৃহন্মুম্বই পুরসভা একাধিক তারকাকে দিয়ে ভিডিয়োবার্তা রেকর্ড করায়। সেখানে সাধারণ মানুষকে আদালতের নির্দেশ মেনে বাজি ফাটানো থেকে বিরত থাকার আবেদন জানানো হয়। বায়ুর গুণমান ক্রমশ খারাপ হওয়ার উদ্বেগের মধ্যে জনসচেতনতা প্রচারে এই প্রথম পুরসভা তারকাদের যুক্ত করতে উদ্যোগী হন কর্তৃপক্ষ।

দীয়ার ভিডিয়োটিও সেই প্রচারেরই অঙ্গ। তবে বিজেপি নেতার আপত্তি এবং সমাজমাধ্যমে কয়েকটি দক্ষিণপন্থী হ্যান্ডলের দ্বারা সমালোচিত হওয়ার পর সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে শিবসেনার মুখপাত্র শায়না এনসি বলেন, “দীপাবলি যে আলোর উৎসব, তা স্পষ্ট। দীয়া মির্জ়ার নামের মধ্যেই ‘দীপ’ রয়েছে। তাই দীপাবলির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সাংস্কৃতিক পরিচয় ও আবেগ সম্পর্কে ওঁর বোঝা উচিত। কেউ দূষণ ছড়ানো বা বাজি ফাটানোর প্রচার করছে না। তবে আমাদের নিজেদেরও আত্মসমীক্ষা করা প্রয়োজন। মুম্বইবাসীর কী করা উচিত, সে বিষয়ে অন্য কারও কাছ থেকে আমাদের পাঠ নেওয়ার প্রয়োজন নেই।”

দীয়ার বার্তার বিরোধিতা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠাওয়ালেও। তিনি বলেন, “দীয়া মির্জ়া একজন অভিনেত্রী এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিষয় নয়। সংবিধান প্রত্যেক ধর্মকে নিজস্ব উৎসব পালনের অধিকার দিয়েছে। হিন্দুরা যেমন ইদকে সম্মান করেন এবং সেই উৎসবে যোগ দেন, তেমনই হিন্দু সম্প্রদায় দীপাবলি পালন করে। বাজি ফাটানো না হলে দীপাবলির কিছু তাৎপর্য হারিয়ে যেতে পারে। যদিও অতিরিক্ত দূষণ নিয়েও আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত।”

উল্লেখ্য, দীয়ার বাবা ছিলেন খ্রিস্টান এবং মা বাঙালি হিন্দু। জন্মদাতা বাবার সঙ্গে মায়ের বিচ্ছেদের পর তাঁর মা ইসলাম ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। সৎবাবার কাছেই বড় হয়েছেন দীয়া। তাঁর পদবি ‘মির্জ়া’ ব্যবহার করেন দীয়া। এক সাক্ষাৎকারে নিজেই জানিয়েছিলেন, ধর্ম তাঁর পরিচয় নয়।

এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত ভিডিয়ো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে অভিনেত্রীর তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

Dia Mirza BJP Diwali BMC

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy