এখন শুধু কলকাতাতেই নয়, মায়ানগরীতেও নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করতে ছুটছেন একের পর এক পরিচিত মুখ। কেউ যাচ্ছেন কাজের খোঁজে, কেউ আবার বলিউডের দরজা খোলার আশায়। স্টুডিয়োপাড়ার এক আলোচিত অভিনেত্রীও সম্প্রতি সেই পথেই হেঁটেছিলেন। কয়েক মাসের জন্য পাড়ি দিয়েছিলেন মুম্বইয়ে। তাঁর সেই সফর ঘিরে অবশ্য কাজের পাশাপাশি অন্য গুঞ্জনও কম হয়নি। শোনা গিয়েছিল, এক বিদেশি ব্যবসায়ীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্রেই নাকি তাঁর মুম্বইযাত্রা।
মায়ানগরীতে গিয়ে একেবারে গুটিয়ে ছিলেন না অভিনেত্রী। বরং ইন্ডাস্ট্রির বেশ কিছু প্রভাবশালী মানুষের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল বলেই খবর। পার্টি থেকে শুরু করে বিভিন্ন আড্ডা—মুম্বইয়ের বিনোদন জগতের অন্দরমহলে নিজের পরিচিতির পরিধি বাড়ানোর চেষ্টাও নাকি করেছিলেন তিনি। কিন্তু এত কিছুর পরেও প্রত্যাশামতো কোনও বড় কাজ বা সুযোগ তাঁর হাতে আসেনি। ফলে কয়েক মাস কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত কলকাতাতেই ফিরেছেন অভিনেত্রী।
আরও পড়ুন:
শহরে ফিরে অবশ্য আপাতত বেশ নিশ্চিন্তই তিনি। পরিচিত পরিবেশ, চেনা মানুষজন, নিজের কাজের জগৎ—সব মিলিয়ে মায়ানগরীর দৌড়ঝাঁপের তুলনায় কলকাতার গণ্ডিতেই যেন স্বস্তি বেশি। কিন্তু মুশকিল হয়েছে অন্য জায়গায়।
অভিনেত্রী যখন শহরের বাইরে, তখন টলিপাড়ায় কিন্তু থেমে থাকেনি সময়। তাঁর অনুপস্থিতিতে একের পর এক নতুন মুখকে দেখা গিয়েছে বিভিন্ন জায়গায়। বিশেষ করে কয়েকজন উঠতি নায়িকা ইতিমধ্যেই ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী মহলে নিজেদের জায়গা করে নিতে শুরু করেছেন। কারও হাতে নতুন কাজ, কারও আবার একের পর এক পরিচিতি তৈরি হচ্ছে। আর সেই ছবিটাই নাকি ফিরে এসে খুব একটা পছন্দ হয়নি অভিনেত্রীর।
কানাঘুষো, আগে যে সব আড্ডায় তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ছিল, সেখানে এখন নতুন মুখদের দেখা যাচ্ছে। যে সব মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, তাঁদের সঙ্গেও নতুন প্রজন্মের নায়িকাদের ওঠাবসা নাকি বেড়েছে। ফলে নিজের পুরনো জায়গাটা কি ধীরে ধীরে অন্য কেউ দখল করে নিচ্ছেন? প্রশ্নটা নাকি ভাবাচ্ছে অভিনেত্রীকে।
ঘনিষ্ঠমহলে নাকি এমন আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে ইন্ডাস্ট্রির প্রভাবশালী বৃত্তে নিজের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ভয় তাঁর মধ্যে কাজ করছে বলেই খবর। এত দিন যে পরিচিতি এবং যোগাযোগকে নিজের শক্তি বলে মনে করতেন, মুম্বইয়ে গিয়ে কয়েক মাসের বিরতির পর ফিরে এসে সেই সমীকরণে যে খানিকটা বদল এসেছে, তা নাকি তাঁর চোখ এড়ায়নি।
আরও পড়ুন:
আর সেখান থেকেই নাকি শুরু হয়েছে অস্বস্তি। উঠতি নায়িকাদের নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও তাঁদের বাড়তে থাকা যোগাযোগ নিয়ে অভিনেত্রীর মনোভাব যে খুব একটা স্বস্তির নয়, তা নাকি ঘনিষ্ঠদের কথাবার্তাতেই স্পষ্ট। কেউ কেউ অবশ্য বলছেন, এটা নিছকই ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা ধরে রাখার স্বাভাবিক তাগিদ। আবার কারও মতে, মায়ানগরীতে গিয়ে প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ার পর কলকাতায় ফিরে নতুন এই সমীকরণ আরও বেশি করে চোখে পড়ছে তাঁর।