উত্তরপ্রদেশের শামলীতে জিমের বাইরে গুলি করে খুন করা হয়েছে হরিয়ানার ৩২ বছর বয়সি সঙ্গীতশিল্পী অঙ্কিত বালিয়ানকে। বুধবার সন্ধ্যার এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে ওই সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, গায়ককে লক্ষ্য করে প্রায় ১৮ রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। এই ঘটনার পরে ফের আলোচনায় পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কয়েকজন সন্দেহভাজন দুষ্কৃতী মোটরবাইকে করে জিমের কাছে আসে। এর পর গায়কের দিকে এগিয়ে যায় তারা। অন্য একটি ফুটেজে চার জনকে পায়ে হেঁটে বালিয়ানের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। তাদের মধ্যে এক বা দু’জনের কাঁধে ব্যাগও ছিল বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, জিম থেকে বেরোনোর সময় বালিয়ানকে লক্ষ্য করে প্রায় ১৮ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। গায়কের শরীরে পাঁচটি গুলি লাগে। মাথা এবং পেটেও গুলি লাগে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর আহত হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য দিকে বালিয়ানের খুনের দায় স্বীকার করে হরিয়ানার গোগী গোষ্ঠী হুমকি-বার্তা দিয়েছে বলে দাবি। গোগী গ্যাঙের এক সদস্য বলে পরিচিত ভোলু শাহপুরিয়ার একটি পোস্ট সমাজমাধ্যমে প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘‘এটা সবে শুরু। সকলের পালা আসবে।’’ পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
হরিয়ানার সঙ্গীতজগতে বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন অঙ্কিত। তাঁর উল্লেখযোগ্য গানগুলির মধ্যে রয়েছে ‘ভরী কোর্ট মে গোলী মারেঙ্গে মেরী জান’। শামলীতেই জন্ম অঙ্কিতের। ২০২৩ সালে জেলায় আয়োজিত একটি ‘রোড শো’ ঘিরেও বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি শামলীর আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন অঙ্কিত।
এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ২০২২ সালে সিধুর খুনের তুলনা করা হচ্ছে। ওই বছরের ২৯ মে পঞ্জাবে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন পঞ্জাবি গায়ক মুসেওয়ালা। তাঁকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল পরিকল্পিত হামলা। পরবর্তী সময়ে কানাডার গ্যাংস্টার গোল্ডী ব্রার এবং জেলবন্দি লরেন্স বিশ্নোই এই হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন বলে জানা যায়।
এখন অঙ্কিতের হত্যার তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থলের তথ্য এবং সমাজমাধ্যমের পোস্ট খতিয়ে দেখছে শামলী পুলিশ। দুষ্কৃতীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।