দিল্লি মেট্রোর দু’টি স্টেশনে খলিস্তানপন্থী গ্রাফিতি আঁকার অভিযোগে এক মহিলা-সহ তিন জনকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশ্যাল সেল। গায়ক দিলজীত দোসাঞ্ঝকে নিশানা করে এই গ্রাফিতি আঁকা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। রাজধানীতে তাঁর কনসার্টের আগে এই ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য রাজধানীতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, জাহাঙ্গিরপুরী এবং শাস্ত্রীনগর মেট্রো স্টেশনে এই ধরনের গ্রাফিতি নজরে আসার পরেই তদন্ত শুরু হয়। সেই সূত্র ধরেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গত ৩০ অক্টোবর দিল্লির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠান করে ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর’ শুরু করেন দিলজীত। দিল্লির পর ইনদওর, অহমদাবাদ, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, লখনউ, কলকাতায় অনুষ্ঠান করার কথা তাঁর। সফরের তালিকায় রয়েছে চণ্ডীগড়ও। তবে সেখানে অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ পরে ঘোষণা করা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, ২৯ অক্টোবর জাহাঙ্গিরপুরী মেট্রো স্টেশনের ১ নম্বর গেটের কাছে মেঝেতে গ্রাফিতি দেখতে পাওয়া যায়। পরের দিন, ৩০ অক্টোবর, শাস্ত্রীনগর মেট্রো স্টেশনের ২ নম্বর গেটের সিঁড়ির ভিতরের দেওয়ালে একই ধরনের গ্রাফিতি নজরে আসে।
পুলিশের দাবি, দুই জায়গাতেই লেখা ছিল, “দিলজীত দোসাঞ্ঝে দেশদ্রোহী, এসএফজে খলিস্তান এর বদলা নেবে রক্ত দিয়ে”। নিষিদ্ধ বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘শিখস ফর জাস্টিস’ (এসএফজে) এবং খলিস্তানপন্থী মতাদর্শের সমর্থনে এই স্লোগান লেখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের বক্তব্য, মেট্রো স্টেশনের মতো জনসাধারণের ব্যবহৃত জায়গায় এ ভাবে গ্রাফিতি আঁকা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার পাশাপাশি জনশৃঙ্খলা ও দেশের অখণ্ডতার প্রতি হুমকির সমান।
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। জাহাঙ্গিরপুরী মেট্রো স্টেশনের ঘটনার জন্য মেট্রো আজ়াদপুর থানায় এবং শাস্ত্রীনগর মেট্রো স্টেশনের ঘটনার জন্য মেট্রো এনএসপি থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে।
গ্রেফতারের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, স্পেশ্যাল সেলের নর্দার্ন রেঞ্জের একটি দল এই অভিযানে নেতৃত্ব দেয়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন ইনস্পেক্টর অনুকূল পওয়ার এবং প্রবীণ কুমার। এসিপি রাহুল কুমার সিংহের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালিয়ে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের নাম সুমিত ওরফে রফতার, সুমিত কুমার ওরফে কাকা এবং গুরপ্রীত।
পুলিশের দাবি, তদন্তে জানা গিয়েছে, সুমিত কুমারের উস্কানিতেই মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। এসএফজে-এর সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি নাকি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে একটি ‘এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ’ ডাউনলোড করতে বলেছিলেন। সেই অ্যাপের মাধ্যমেই নির্দিষ্ট গ্রাফিতির নকশা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ। দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিতে এই গ্রাফিতি আঁকার বিনিময়ে আর্থিক পুরস্কারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
এর পর সুমিত নাকি গুরপ্রীত এবং রফতারকে এই কাজে যুক্ত করে। পুলিশের দাবি, গত ২৮ অক্টোবর তিন জন দিল্লিতে আসে। জাহাঙ্গিরপুরী মেট্রো স্টেশনে রফতার গ্রাফিতি আঁকে এবং সেই কাজের ভিডিয়ো তুলে নিজের নিয়োগকারীদের পাঠায় বলে অভিযোগ। অন্য দিকে, শাস্ত্রীনগর মেট্রো স্টেশনে গ্রাফিতি আঁকার কাজ করে সুমিত ও গুরপ্রীত।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ৩০ অক্টোবর সময়পুর বাদলি থানার অধীন জিটিকে বাইপাসের কাছেও সুমিত কুমার গ্রাফিতি এঁকেছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনার দিকটি আলাদা করে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।