মুম্বইয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিস পাঠিয়েছিল মুম্বইয়ের ফরেনার্স রিজিয়োনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। বৃহস্পতিবার সেই নোটিস পাওয়ার পর শনিবার বম্বে হাই কোর্টে আবেদন করেন অভিনেতা। তাঁকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে মুম্বই পুলিশ যে নোটিস জারি করেছিল, তার বিরোধিতা করেই আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি।
রবিবার ইমরানকে দ্বিতীয় নোটিস পাঠাল এফআরআরও। খবর পাওয়া গিয়েছে, এ বার তাঁর ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া (ওসিআই) মর্যাদা কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে সিজেপি-র আন্দোলনের সমর্থনে মুম্বইয়ের ক্রান্তি ময়দানে আয়োজিত বিক্ষোভে ইমরানের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে নোটিসে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ওই বিক্ষোভের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি। বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে ইমরান এবং অন্য বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
এফআরআরও ইমরানকে জবাব দেওয়ার জন্য ১৫ দিন সময় দিয়েছে। ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ওসিআই কার্ড বাতিলের মতো কোনও পদক্ষেপ করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বক্তব্য জানানোর সুযোগ দিতে হয়। নোটিসে এফআরআরও স্বীকার করেছে, শুধু এফআইআর দায়ের হওয়া বা পুলিশি হেফাজতে নেওয়া অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করে না। একই ভাবে, এই দু’টি ঘটনা নিজে থেকেই ওসিআই মর্যাদা বাতিলের স্বয়ংক্রিয় কারণও নয়। শুধু বিক্ষোভে যোগ দেওয়াও কার্ড বাতিলের যথেষ্ট ভিত্তি হতে পারে না বলে জানিয়েছে দফতর।
এর আগে ১৪ অক্টোবর ইমরানকে ভারত ছাড়ার নোটিস পাঠিয়েছিল মুম্বইয়ের এফআরআরও। তার চার দিন আগে, ১০ অক্টোবর, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মুম্বইয়ে আয়োজিত বিক্ষোভ থেকে অভিনেতাকে সাময়িক ভাবে আটক করেছিল পুলিশ। সংবাদসংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভে ইমরানের যোগদান নিয়ে মুম্বই পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলেন বিজেপির এক প্রাক্তন সাংসদ।
ইমরানের মতো ক্ষেত্রে দু’টি আইন প্রাসঙ্গিক। ২০২৫ সালের অভিবাসন আইন অনুযায়ী, সরকার ও অনুমোদিত আধিকারিকেরা কোনও বিদেশি নাগরিককে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারেন। অন্য দিকে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে ওসিআই কার্ডধারীদের জন্য পৃথক বিধান রয়েছে। ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশি নাগরিকেরা নির্দিষ্ট শর্তে এই মর্যাদা পেতে পারেন। ব্যুরো অব ইমিগ্রেশনের লেটারহেডে জারি করা প্রথম নোটিসে বলা হয়েছিল, ইমরান “ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫ এবং তার অধীনে প্রণীত নিয়ম ও নির্দেশ লঙ্ঘন করেছেন”। নোটিসে ওই আইনের দু’টি ধারার উল্লেখ করা হয়— ৭ নম্বর ধারা, যার মাধ্যমে সরকার কোনও বিদেশিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিতে পারে, এবং ২৯ নম্বর ধারা, যা অনুযায়ী তাঁকে দেশ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। নোটিসে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, ইমরান “ভারতে থাকতে পারবেন না এবং ২৮ অক্টোবর, ২০২৬-এর মধ্যে তাঁকে ভারত ছাড়তে হবে”।
আরও পড়ুন:
এই নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে বম্বে হাই কোর্টে দায়ের করা আবেদনে ইমরানের অভিযোগ, তাঁকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও কারণ জানানো হয়নি। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেওয়ার সুযোগও দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিনেতা।