২০০৪ সালে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হয় ‘ইন্ডিয়ান আইডল’। প্রথম সিজ়নে জয়ী হয়েছিলেন গায়ক অভিজীত সাওয়ন্ত। কিন্তু রিয়্যালিটি শো জিতলেই যে প্লে-ব্যাক গানের জগতে কাজের সুযোগ নিশ্চিত হয়ে যায়, তা নয়। অভিজীতের কথায়, তাঁর প্রজন্মের রিয়্যালিটি শোয়ের প্রতিযোগীদের কণ্ঠশিল্পী হিসাবে জায়গা করে নেওয়া ছিল বেশ কঠিন। কারণ, সেই সময়ে প্রতিষ্ঠিত গায়ক এবং সুরকারদেরই আধিপত্য ছিল ইন্ডাস্ট্রিতে।
‘ইন্ডিয়ান আইডল: লেজেন্ডস রিটার্ন’-এ প্রতিযোগী হিসেবে ফিরে এসেছেন অভিজীত। নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, শোয়ের শিরোপা তাঁকে পরিচিতি দিলেও, প্লে-ব্যাক গানের সুযোগ আপনা থেকে আসেনি। এক সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিজীত বলেন, “আমাদের সময়ে বিষয়টা খুব কঠিন ছিল। কারণ, ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক বিধিনিষেধ ছিল। সবকিছু আগে থেকেই ঠিক করা থাকত। সমস্ত গায়ক এবং সুরকার প্রতিষ্ঠিত ছিলেন, প্রত্যেকে নিজেদের কাজ করছিলেন। আমরা গিয়ে রীতিমতো দরজায় কড়া নেড়ে বলতাম, ‘দয়া করে আমাদের ঢুকতে দিন, কাজ দিন’।”
রিয়্যালিটি শোয়ের প্রতিযোগীদের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকায় সঙ্গীতজগতের কিছু মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতাও তৈরি হয়েছিল বলে মনে করেন অভিজীত। তাঁর কথায়, “আমাদের অভিজ্ঞতার ভাল এবং খারাপ, দু’টো দিকই ছিল। যেমন, কিছু মানুষের মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছিল। তাঁদের মনে হয়েছিল, আমরা রিয়্যালিটি শোয়ের প্রতিযোগীরা, এত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছি যে, প্লে-ব্যাক গায়কদের থেকেও বড় হয়ে উঠছি। সেটাও একটা বিষয় ছিল। প্রত্যেককেই এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে, আর আমাদেরও তা সামলাতে হয়েছে।”
কর্মজীবনে দু’দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে এসেছেন অভিজীত। তাঁর কথায়, পেশাগত জীবনে এখনও সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। তবে সেই সমালোচনাকে নিজের কাজের পথে বাধা হতে দেন না তিনি। অভিজীত বলেন, “মানুষ আপনাকে খোঁটা দেবে। আপনার কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, তা শেখাতে আসবে, এমনকি তাদের নিজেদের কোনও অভিজ্ঞতা না থাকলেও। কিন্তু এত কিছু সহ্য করার পরেও আপনাকে নিজের মন ঠিক রাখতে হবে। কিছু অর্জন করার চেয়েও যাত্রাপথটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।”
আরও পড়ুন:
‘ইন্ডিয়ান আইডল’ জেতার পর থেকে নিজের কর্মজীবনের দিকে ফিরে তাকিয়ে অভিজীত জানান, শোয়ের মাধ্যমে পাওয়া পরিচিতি শুধু সঙ্গীতজগতেই নয়, বিনোদনের অন্যান্য ক্ষেত্রেও তাঁর সামনে দরজা খুলে দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ‘বিগ বস্ মরাঠী’, ‘সেলিব্রিটি মাস্টারশেফ’ এবং ‘কমেডি সার্কাস’-এর মতো টেলিভিশন শোয়ে যোগ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, ছবিতে অভিনয়ও করেছেন। অভিজীতের কথায়, “শিরোপা জেতার পর মানুষ আমাকে শুধু গায়ক হিসেবে দেখে না, টেলিভিশন-ব্যক্তিত্ব হিসেবেও চেনে। তাই জনপ্রিয় হয়ে উঠলে অনেক ধরনের কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায়। আর মুখচেনা হওয়ার সেই জনপ্রিয়তা আমাদের দিয়েছে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’।”
তবে নিজেকে কণ্ঠশিল্পীর তুলনায় পপ-শিল্পী বলতেই বেশি পছন্দ করেন অভিজীত। তাঁর স্বাধীন ভাবে তৈরি গান ‘মোহব্বতেঁ লুটাউঙ্গা’ এবং ‘জুনুন’-এর জনপ্রিয়তাই এই পরিচয়ের অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন তিনি।
৪৫ বছর বয়সি গায়ক এখন নতুন মৌলিক গান তৈরির দিকে মন দিয়েছেন। তাঁর হাতে রয়েছে পাঁচটি গান, যেগুলি মুক্তির অপেক্ষায়। এই প্রকল্পগুলির মধ্যে রয়েছে দু’টি মৌলিক গান, এক জন মরাঠী র্যাপারকে নিয়ে হিন্দি ও মরাঠী গানের মিশ্রণে তৈরি একটি গান এবং জনপ্রিয় সংস্থার সঙ্গে তাঁর তৈরি করা আরও দু’টি গান।
অভিজীতের কাছে ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর মঞ্চে ফিরে আসা মানে শুধু স্মৃতি রোমন্থন নয়, বরং নিজের সঙ্গীত নিয়ে নতুন পরীক্ষানিরীক্ষা করা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের কাছ থেকে শেখার সুযোগও। তিনি বলেন, “এখন আমার প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গেই। এই মঞ্চ থেকে আমি শিখতে চাই। নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাজ করতে চাই। এই তরুণ সঙ্গীতশিল্পী এবং গায়কদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছি, এটাই আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।”
গত ১৭ অক্টোবর থেকে সম্প্রচার শুরু হয়েছে ‘ইন্ডিয়ান আইডল: লেজেন্ডস রিটার্ন’-এর। সোনি এন্টারটেনমেন্ট টেলিভিশনে দেখা যাচ্ছে এই শো। পাশাপাশি, অনলাইনে সোনিলিভ-এও অনুষ্ঠানটি দেখা যাচ্ছে।