‘দেবরা’র জনপ্রিয় গান ‘চুট্টামল্লে’-র দৃশ্য ব্যবহার করে প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী জাহ্নবী কপূর। তাঁর অভিযোগ, কোনও মহিলার সম্মতি ছাড়া প্রযুক্তির অপব্যবহার করে তাঁকে যৌনভাবে উপস্থাপন করা অপরাধ, যা কার্যত যৌন নিগ্রহের পর্যায়ে পড়ে। জাহ্নবীর কথায়, এই বিষয়টি একা তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, বরং গোটা সমাজের জন্যই ক্ষতিকর।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরে অবশ্য ভিডিয়োটি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযোগ, ‘চুট্টামল্লে’ গানে জাহ্নবীর দৃশ্য ব্যবহার করে সেটিকে বিকৃত করে যৌন উত্তেজক কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। রবিবার, ৪ অক্টোবর, নিজের সমাজমাধ্যমের পাতায় দীর্ঘ একটি পোস্টে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন অভিনেত্রী। তিনি লেখেন, “প্রযুক্তির অপরাধমূলক অপব্যবহারের মাধ্যমে নারীদের বস্তু হিসাবে উপস্থাপন করা এবং তাঁদের সম্মতি ছাড়া কাল্পনিক বিষয় ছড়িয়ে দেওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকারক, যা যৌন নিগ্রহের পর্যায়ে পড়ে।” অভিনেত্রীর দাবি, তাঁর ইন্ডাস্ট্রির প্রায় প্রত্যেক মহিলাই কোনও না কোনও ভাবে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। একইসঙ্গে সর্বত্রই মহিলাদের এই ধরনের ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জাহ্নবীর কথায়, কোনও মহিলার শরীর নিয়ে তাঁর সম্মতি, পছন্দ এবং মর্যাদাকে সম্মান করা মানবিকতার সবচেয়ে মৌলিক বিষয়গুলির মধ্যে পড়া উচিত। অথচ এখনও কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিষয়গুলিকে এত জটিল করে তোলা হচ্ছে, যা হওয়া উচিত নয়।
অভিনেত্রী আরও লেখেন, “একজন মহিলা যদি টানা পাঁচ দিন ‘হ্যাঁ’ বলেন এবং ষষ্ঠ দিনে ‘না’ বলেন, তা হলে সেই ‘না’-কে সম্মান করতেই হবে— এটা এখনও অনেকেই বোঝেন না, অবাক লাগে।”
জাহ্নবীর দীর্ঘ পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত।
পোশাকের প্রসঙ্গ টেনে জাহ্নবী বলেন, কোনও মহিলা মিনিস্কার্ট পরলেই তাঁকে যৌন হেনস্থা করার অধিকার জন্মায় না কারও। কোনও মহিলা কোন বিষয়ে স্বচ্ছন্দ, কোথায় তিনি সীমারেখা টানবেন এবং নিজের শরীর নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবেন— সেই অধিকার একমাত্র তাঁরই, মত অভিনেত্রীর।
তাঁর কথায়, এতদিন যে শারীরিক নিরাপত্তাহীনতা মহিলাদের জীবনকে প্রতিদিন প্রভাবিত করছে, সেই হুমকি এ বার ডিজিটাল দুনিয়াতে আরও বড় আকারে সামনে এসেছে। জাহ্নবী লিখেছেন, সমস্যার সমাধান শুধু ‘নিজের মেয়েকে সুরক্ষিত রাখুন’ বললেই হতে পারে না। তাঁর মতে, মানুষের মধ্যে এমন মানসিকতা তৈরি হওয়াটাই বন্ধ করতে হবে, যার ফলে কেউ মনে করেন অন্যের ব্যক্তিগত সীমারেখা লঙ্ঘন করার অধিকার তাঁর রয়েছে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন জাহ্নবীর সহ-অভিনেতা জুনিয়র এনটিআর। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন জাহ্নবী। তিনি লেখেন, “এনটিআর স্যার যে ভাবে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং এর নিন্দা করেছেন, তাতে আমি গভীর ভাবে আপ্লুত। ধন্যবাদ, স্যার।” তাঁর মতে, কোটি কোটি মানুষ যাঁকে অনুসরণ করেন, সেই ব্যক্তি যখন এমন কোনও বিষয়ে সরব হন, তখন এই ধরনের আচরণের শিকার হওয়া প্রত্যেক মহিলার কাছেই তার বিশেষ গুরুত্ব থাকে।
জাহ্নবীর এই বিবৃতি আসে জুনিয়র এনটিআরের প্রতিবাদের পর। এর আগে অভিনেতা এআই ব্যবহার করে তৈরি এই বিকৃত ভিডিয়োর তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছিলেন, এর জন্য তিনি প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ করবেন।