আবার প্রযুক্তির অপব্যবহার! কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগে গানের বিকৃত ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই মুখ খুললেন অভিনেতা জুনিয়র এনটিআর। গত কয়েক দিন ধরে সমাজমাধ্যমে ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ‘চুট্টামল্লে’ গানের একটি বিকৃত ও এআই-নির্মিত ডিপফেক ভিডিয়ো। ২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া এই গানটি জুনিয়র এনটিআর এবং জাহ্নবী কপূর অভিনীত ‘দেবরা: পার্ট ১’ ছবির। শনিবার ওই বিকৃত ভিডিয়ো নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিলেন অভিনেতা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে অভিনেতাদের মুখ বদলে দেওয়া, কণ্ঠস্বর নকল করা কিংবা পুরনো ভিডিয়োয় নতুন বক্তব্য জুড়ে দেওয়া কোনও নতুন ঘটনা নয়। ‘ডিপফেক’ এখন তারকাদের জীবনের অন্যতম বড় সমস্যা। কখনও আপত্তিকর ভিডিয়োয় মুখ ব্যবহার করা হয়েছে রশ্মিকা মন্দানার, কখনও ওয়ামিকা গব্বীর দেহে বসানো হয়েছে আলিয়া ভট্টের মুখ। আবার, কখনও আমির খানের মুখে বসানো হয়েছে ভোটপ্রচারের কথা। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিক তারকা সরব হয়েছেন। এ বার সেই সমস্যায় জাহ্নবী ও জুনিয়র এনটিআর।
সমাজমাধ্যমে অভিনেতার পোস্ট। ছবি: সংগৃহীত।
সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে অভিনেতা লেখেন, “অসহ্য, জঘন্য, নির্লজ্জ”। তাঁর কথায়, যে দেশে নারীদের মা ও দেবী হিসেবে সম্মান করা হয় এবং যেখানে ‘মাতৃদেব ভব’ শুধুমাত্র একটি বাক্য নয়, বরং সংস্কৃতির অংশ, সেখানে কিছু মানুষ এতটা নীচে নেমে গিয়েছেন যে এআই ব্যবহার করে একজন নারীকে অত্যন্ত নিকৃষ্ট ভাবে অসম্মান করছেন। তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের জঘন্য কনটেন্ট তৈরি করতে এআই-এর ব্যবহার “অত্যন্ত লজ্জাজনক”।
এর পরই ওই বিকৃত ভিডিয়ো তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দেন দক্ষিণী তারকা। তিনি লেখেন, “এই বিকৃত ভিডিয়ো যাঁরা তৈরি করেছেন, তাঁদের কাউকে আমি ছেড়ে দেব না।” সকলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
আরও পড়ুন:
একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে এমন কোনও কনটেন্ট না দেখার, শেয়ার না করার অনুরোধ করেছেন অভিনেতা। তাঁর কথায়, “আজ এটা অন্য কারও সঙ্গে ঘটছে। কাল আপনার মা, বোন, স্ত্রী বা মেয়ের সঙ্গেও এমনটা ঘটতে পারে।” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার রুখতে কেন্দ্র ও সমস্ত রাজ্য সরকারকে আরও কঠোর পদক্ষেপ এবং কড়া নিয়ম চালুর আবেদনও জানিয়েছেন জুনিয়র এনটিআর। তাঁর মতে, এটি অত্যন্ত গুরুতর একটি বিষয়।
২০২৪ সালে মুক্তি পাওয়া গানটির সুর করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্র। তেলুগুতে ‘চুট্টামল্লে’ নামে পরিচিত গানটির হিন্দি সংস্করণ ‘ধীরে ধীরে’। এ ছাড়া তামিল, কন্নড় এবং মলয়ালম ভাষাতেও গানটি মুক্তি পায়। গানটি শিল্পা রাওয়ের গাওয়া। এই ছবির মাধ্যমেই তেলুগু ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ করেন জাহ্নবী।