‘ফ্রেন্ডশিপ ডে’ বা বন্ধুত্ব দিবসে জীবনের ব্যক্তিগত কিছু স্মৃতি ভাগ করে নিলেন পরিচালক কর্ণ জোহর। ছোটবেলার একাকিত্ব এবং জীবনের কঠিন সময়ে যাঁরা তাঁর পাশে ছিলেন, তাঁদের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একমাত্র সন্তান হিসাবে বড় হওয়া, সবার সঙ্গে মিশতে না পারা এবং পরে এমন কিছু বন্ধুকে খুঁজে পাওয়া, যাঁরা আজও তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সবই উঠে আসে কর্ণের বন্ধুত্ব দিবসের পোস্টে।
হাস্যরসের সঙ্গে আবেগ মিশিয়ে কর্ণ তাঁর প্রথম বন্ধু ফরজ়ানা মঞ্চারজির কথা বলেছেন। ছোটবেলায় নিজেকে একা মনে হত বলে জানান প্রযোজক। বাড়ির জানলা দিয়ে অন্য বাচ্চাদের ক্রিকেট খেলতে দেখতেন তিনি। নিজেকে ‘মোটা সাত বছরের ছেলে’ বলেও মশকরা করেছেন তিনি। যদিও ক্রিকেটে তাঁর তেমন আগ্রহ ছিল না। তাঁর কথায়, “সাত বছর বয়সে আমি বাড়ির জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকতাম। তখন আমার ওজনও বেশিই ছিল। ক্রিকেট মাঠে নেমে রান করা তো দূরের কথা, দৌড়োনোর কথাই ভাবতে পারতাম না।”
আরও পড়ুন:
তবে এই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল গভীর একাকিত্ব। কর্ণের মনে তখন বার বার একটাই প্রশ্ন আসত, “আমার কোনও বন্ধু নেই কেন?” তিনি জানান, একমাত্র সন্তান হওয়ায় ছোটবেলায় নিজের প্রতি করুণা হত তাঁর। সেই সময়ে তাঁর পৃথিবী বলতে ছিল নিজের ঘর আর অনিশ্চয়তা। সব কিছু বদলে যায় যখন তাঁর জীবনে আসেন ফরজ়ানা মঞ্চারজি। কর্ণ জানান, ফরজ়ানা ছিলেন প্রাণবন্ত এক পারসি মেয়ে। তিনিই কর্ণকে নিজের গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করেন। কর্ণ বুঝতে পারেন, তিনি অকারণেই নিজের জন্য অতিরিক্ত দুঃখ পান।
প্রযোজকের কথায়, “ফরজ়ানা যেন আমাকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছিল। ও আমাকে বুঝিয়েছিল, আমি ভীষণ নাটুকে স্বভাবের মানুষ। নিজের ঘরে বসে থাকার বদলে বাইরে বেরিয়ে নিজের জন্য নতুন একটা জায়গা তৈরি করাই ছিল আমার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”