রাজনৈতিক পালাবদলের প্রভাব এই ছ’মাসে টলিপাড়ার অন্দরেও পড়েছে। তারই জেরে এ বার পালাবদল টলিউডের ব্যবস্থাপনাতেও, যা চূড়ান্ত রূপ পেতে চলেছে ফেডারেশনের ভোটে। শনিবারের পর রবিবারও টলিপাড়ার এই ভোটে সশরীরে থেকে বাহ্যিক তদারকি করছেন মিঠুন চক্রবর্তী। দ্বিতীয় দিনেও ভোটের ফাঁকে টলিপাড়াকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিনেতা। ফেডারেশন ও গিল্ডের নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া নানা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তিনি বদ্ধপরিকর বলে জানান মিঠুন। ইতিমধ্যেই স্টুডিয়োপাড়া নিয়ে সরকারের তরফে আয়োজিত বিভিন্ন মিটিংয়ে হাজির থাকতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ভোটের দু’দিনও তাঁকে একই ভাবে দেখা গেল টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর চত্বরে। ভোটে তাঁর কাজটা কী?
আনন্দবাজার ডট কম-কে মিঠুন বললেন, “কারও যাতে কোনও অভিযোগ না থাকে, কেউ যাতে বলতে না পারে ভোট দিতে পারেননি, কোনও রাজনীতির ছাপ যাতে না পড়ে, এ জন্যে আমি এখানে রয়েছি। ভোটার ছাড়া কেউ ভিতরে যাবে না। রাজনৈতিক ভাবে তদারকি করছি, কাউকে বিরক্ত না করে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন, সেটাই মেনে চলব।” বিজয়ীদের উদ্দেশ্যে মিঠুনের বার্তা, “যাঁরা জিতছেন, বুঝতে হবে তাঁদের সবাই চান। তাই মনে রাখতে হবে, আগের মতো নোংরামি যাতে না হয়।”
আরও পড়ুন:
তথাকথিত অবৈধ ভোটারদের বাদ যাওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিনেতা বলেন, “আমি বার বার বলেছি কোনও চিন্তা না করে অপেক্ষা করতে। এই ভোট সম্পন্ন হলে, আমি সবার সঙ্গে বসব। এটা এমনিতে আমার হাতে নেই। এটা লেবার কমিশনের হাতে রয়েছে। তবু আমি কথা দিচ্ছি সবার সঙ্গে বসব। যাঁরা বৈধ ভোটার, তাঁরা সুযোগ পাবেন। যাঁরা এখন অবৈধ, তাঁদের কী ভাবে সুযোগ দেওয়া যায় ভাবব। অনেক ভুয়ো ভোটার আছেন, মরে গিয়েছেন, তাঁদেরও নাম রেখে দিয়েছে। অনেকে মিথ্যা কথাও বলছেন।”
আরও পড়ুন:
এই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি, অভিযোগ উঠেছে স্বরূপ বিশ্বাসের ঘনিষ্ঠেরা এখনও ফেডারেশনে আছেন। তাঁদের অনেকে লড়ছেন। এর ফলে বিরক্তির সুর প্রকাশ পেয়েছে বিধায়ক-অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারীর গলাতেও। এ প্রসঙ্গে মিঠুন জানান, তিনি এ ব্যাপারে পাপিয়ার সঙ্গে কথা না বলে কোনও মন্তব্য করবেন না। তাঁর বক্তব্য, “একটা গণতন্ত্রের যুগে সংখ্যাগরিষ্ঠেরা জেতে। সে কার লোক, তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। তিনি যদি জিতে আসেন, এর অর্থ মানুষ তাঁকে চাইছেন। তবে তাঁর থেকে আশা করব, যেটা করে এসেছেন, সেটা যেন ফের না হয়। সে রকম কিছু হলে, আমি খুব খারাপ লোক হব।”