সদ্য তৃতীয় বার বিয়ে করেছেন আমির খান। বেশ ধুমধাম করেই গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ে সেরেছেন তিনি। বলিউডের কয়েক জন তারকা সেই বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। কেউ কেউ উপস্থিত না হলেও তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে কেউ কেউ আবার কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি। যেমন, শেখর সুমন খোঁচা দিয়েছেন আমিরের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে।
শেখর সুমন তাঁর জনপ্রিয় ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘শেখর টুনাইট’-এর সাম্প্রতিক পর্বে আমিরের তৃতীয় বিয়ে নিয়ে মশকরা করেছেন। রাজনীতিতে জোট গঠনের সঙ্গেও আমিরের বিয়ের তুলনা করেছেন তিনি। শেখর ব্যঙ্গের সুরে বলেন, ‘‘এই মানুষটি আগামী বহু প্রজন্মকে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে গেলেন। সেই দৃষ্টিভঙ্গি হল, কোনও কিছু না পাওয়া পর্যন্ত তার পিছনে লেগে থাকতে হয়।’’
এখানেই শেষ নয়। শেখর আরও বলেন, ‘‘আপনি যে পেশাতেই থাকুন না কেন, আমির খানের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা উচিত। বিশেষ করে রাজনীতিকদের ওঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। বলা হয়, রাজনীতিকরাই জোট গড়তে জানেন। কিন্তু জোট গঠন কী ভাবে করতে হয়, তা শেখা উচিত এই মানুষটির কাছ থেকে।’’
শেখর এ-ও বলেন যে, আমিরের প্রাক্তন দুই স্ত্রী অর্থাৎ রিনা দত্ত ও কিরণ রাও-এর পরে গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে বিয়ে ‘মহাগঠবন্ধন’-এর চেয়ে কম কিছু নয়। শেখরের কথায়, ‘‘আমাদের সরকারের ডবল ইঞ্জিন ঠিকমতো চলে না। আর তিনি দিব্যি ট্রিপল ইঞ্জিন চালিয়ে যাচ্ছেন।’’
এর পরেও মশকরা থামাননি শেখর সুমন। তিনি আমিরের ব্যক্তিগত জীবনের তুলনা করেন ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে। শেখর বলেন, ‘‘ওঁর প্রতিভা কল্পনার বাইরে। পেট্রোল, ইথানল আর আইসোবিউটানলের মিশ্রণে যে ইঞ্জিন চলে, আমির যেন তেমনই। এত কিছুর পরেও সেই ইঞ্জিন থামেনি। নতুন গন্তব্যের দিকে মসৃণ গতিতে ছুটে চলেছে।’’
আমিরের কথা বলতে গিয়ে রাজনীতিবিদদেরও খোঁচা দেন শেখর। তিনি আরও বলেন, ‘‘সবার ‘অচ্ছে দিন’ না-ও ফিরতে পারে, কিন্তু আমির খান নিজের ‘অচ্ছে দিন’ তৃতীয় বার ফিরিয়ে এনেছেন। পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয় বার সরকার গড়েছেন তিনি। আমির কি তবে এনডিএ সরকার? প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও হয়তো ভাবছেন, নেহরুর রেকর্ড ভাঙলাম ঠিকই। কিন্তু নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী এসে গেল, যার নাম আমির খান।’’
ইন্ডিয়া জোটেরও আমিরের কাছ থেকে শেখা উচিত বলে মন্তব্য করেন শেখর। কী ভাবে পুরনো সঙ্গীদের নিয়েও নতুন জোট গড়ে এগিয়ে যেতে হয় তা নাকি আমিরের থেকে শেখা উচিত। রসিকতার সুরে শেখর বলেন, ‘‘এখন বুঝতে পারছি, কেন ওঁকে ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ বলা হয়। তিনি কোনও কাজ ততক্ষণ করতে থাকেন, যতক্ষণ না সেটি নিখুঁত হচ্ছে।”