হিন্দি ধারাবাহিক ও তেলুগু ছবির পরিচিত মুখ সোনারিকা ভদোরিয়া। ‘দেবো কে দেব মহাদেব’-এই জনপ্রিয় ধারাবাহিকে পার্বতীর চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। পর্দায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হলেও, বাস্তব জীবনে শৈশবের এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতা আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়ায়। নিজের জীবনের সেই তিক্ত স্মৃতির কথা প্রকাশ্যে আনলেন সোনারিকা। জানালেন, মাত্র ১০-১১ বছর বয়সে যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সোনারিকা জানান, ছোটবেলায় এক পাতানো দাদাকে রাখি পরাতে গিয়েছিলেন তিনি। রাখি পরানোর পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুপুরের খাবার খেতে একটি রেস্তরাঁয় যান। সেখানেই ঘটে ভয়াবহ ঘটনাটি।
সোনারিকার কথায়, রেস্তরাঁর এক ম্যানেজার তাঁর সঙ্গে ছিলেন। একটি দরজা থেকে অন্য দরজায় যাওয়ার মাঝের অন্ধকার জায়গায় ওই ব্যক্তি তাঁর পাশাপাশি হাঁটছিলেন। সেই কয়েক পা চলার মধ্যেই তাঁর শরীরে আপত্তিকর ভাবে হাত দেন ওই ম্যানেজার। অভিনেত্রীর অভিযোগ, তাঁর বুকে হাত দিয়ে চেপে ধরেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তি। ঘটনার আকস্মিকতায় কার্যত হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন ছোট্ট সোনারিকা। কী ঘটেছে, তা বুঝে ওঠার মতো বয়স তখনও হয়নি তাঁর। অভিনেত্রীর কথায়, ঘটনার পর তিনি একেবারে চুপ করে গিয়েছিলেন। কোনও প্রতিবাদ করতে পারেননি। এমনকি সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের কাউকেও কিছু জানাননি।
এর পর বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সেই ঘটনার অভিঘাত বুঝতে পারেন সোনারিকা। কৈশোরে পৌঁছে মাকে বিষয়টি জানান তিনি। মেয়ের মুখে এমন অভিজ্ঞতার কথা শুনে স্বাভাবিক ভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন তাঁর মা। কেন এত দিন বিষয়টি জানাননি, সেই প্রশ্নও করেছিলেন। কিন্তু অভিনেত্রীর বক্তব্য, তখন তিনি নিজেই বুঝতে পারেননি তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল। আতঙ্কে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন।
এখনও নিজের বাবাকে সেই ঘটনার কথা জানাননি সোনারিকা। অভিনেত্রীর আশঙ্কা, বাবা জানতে পারলে অভিযুক্ত ব্যক্তির প্রতি প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করবেন। এমনকি ওই ব্যক্তি বর্তমানে জীবিত না থাকলেও তাঁর বাবা তাঁকে খুঁজে বার করার চেষ্টা করবেন বলে মনে করেন সোনারিকা। সাক্ষাৎকারে এই অতীতের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। কোনও রকমে নিজেকে সামলান ক্যামেরার সামনে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য়, ‘দেবো কে দেব মহাদেব’ ছাড়াও ‘তুম দেনা সাথ মেরা’, ‘পৃথ্বী বল্লভ’, ‘দাস্তান-এ-মোহব্বত সলিম অনারকলী’, ‘ইশক্ মে মরজাবা’-এর মতো একাধিক ধারাবাহিকে দেখা গেছে সোনারিকাকে।