‘পদ্মাবত’ নিয়ে তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্কের জল গড়িয়েছে অনেক দূর। সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে এ বার নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর। তাঁর দাবি, তাঁর কথার ‘ভুল অনুবাদ’ করে একটি মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। রানি পদ্মাবতী কিংবা অন্য মহিলাদের তিনি কখনওই ‘কাপুরুষ’ বলেননি, স্পষ্ট জানালেন অভিনেত্রী।
সম্প্রতি দিল্লির একটি অনুষ্ঠানে ‘পদ্মাবত’-এর শেষ দৃশ্য নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন স্বরা। ছবিতে আলাউদ্দীন খিলজীর বাহিনীর হাতে চিতোরের পরাজয়ের পর রানি পদ্মাবতী-সহ কয়েকশো রাজপুত মহিলা গণআত্মাহুতির পথ বেছে নেয়। সেই দৃশ্যের সমালোচনা করে স্বরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, ধর্ষণ বা যৌনহিংসার শিকার হওয়ার পরে কোনও মহিলার বেঁচে থাকাকে কি ‘পরাজয়’ হিসাবে দেখানো উচিত?
‘পদ্মাবত’ ছবিকে কেন্দ্র করে আগেও বিতর্ক হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত।
স্বরার সেই মন্তব্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। কেউ তাঁকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন, কেউ আবার তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন। অভিযোগ ওঠে, অভিনেত্রী নাকি রানি পদ্মাবতী এবং গণআত্মাহুতি দেওয়া মহিলাদের ‘কাপুরুষ’ বলেছেন।
এই অভিযোগের জবাব দিতেই সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেন স্বরা। সেখানে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্যকে সম্পূর্ণ ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং যা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, ‘‘আমি একেবারেই বলিনি যে, রানি পদ্মাবতী কাপুরুষ ছিলেন বা প্রাসাদের অন্য যে মহিলারা গণআত্মাহুতি দিয়েছিলেন,, তাঁরাও কাপুরুষ ছিলেন।’’ তা হলে ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন স্বরা?
স্বরা ভাস্কর ভিডিয়োর মাধ্যমে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। ছবি: সংগৃহীত।
অভিনেত্রীর ব্যাখ্যা, ‘পদ্মাবত’-এর শেষ দৃশ্য দেখার সময় তাঁর মনে হয়েছিল, যদি তিনি নিজে ধর্ষণের শিকার হতেন, তা হলে ছবির বার্তা তাঁকে কী ভাবে প্রভাবিত করত? তাঁর মনে হতে পারত, তিনি কাপুরুষ, কারণ নিজের জীবন শেষ করে দেননি। অর্থাৎ, ধর্ষণের পরেও বেঁচে থাকার সিদ্ধান্তকে কোনও ভাবেই যেন লজ্জা বা দুর্বলতা হিসাবে না দেখা হয়— সেই প্রশ্নই তুলেছিলেন তিনি।
বর্তমান সমাজে ধর্ষণকে ‘মহামারির’ মতো ছড়িয়ে পড়া সমস্যা বলেও উল্লেখ করেন স্বরা। তাঁর কথায়, আমরা এমন এক সমাজের মধ্যে বাস করছি যেখানে ধর্ষণের ঘটনা উদ্বেগজনক ভাবে বেড়ে চলেছে। সেই পরিস্থিতিতে কোনও সিনেমার দৃশ্য থেকে যদি এমন বার্তা যায় যে, একজন মহিলার শারীরিক ‘পবিত্রতা’ তাঁর জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান, তা হলে সেই বার্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন।
নিজের বক্তব্য বোঝাতে দিল্লি-এনসিআর এলাকায় এক কিশোরীর উপর দীর্ঘ দিন ধরে যৌন নির্যাতনের একটি ঘটনাও উল্লেখ করেন অভিনেত্রী। তাঁর প্রশ্ন, ধর্ষণের শিকার মহিলাদের কি এমন বার্তা দেওয়া উচিত যে, তাঁরা বেঁচে না থাকলেই ভাল হত?
আগেও এই ছবি নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত।
স্বরার বক্তব্যে উঠে আসে নির্ভয়ার প্রসঙ্গও। তাঁর মতে, একজন নারী যৌনহিংসার শিকার হওয়ার পর তাঁর জীবন শেষ হয়ে যায় না। বরং বেঁচে থাকার ইচ্ছা এবং অধিকারকে সম্মান করা উচিত। তাই তাঁর বার্তা, ‘‘কখনও কোনও মহিলার বেঁচে থাকার ইচ্ছাকে ছোট করে দেখবেন না।’’
নিজের ভিডিয়োর সঙ্গে দেওয়া পোস্টেও একই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন স্বরা। তাঁর দাবি, ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়ো ক্লিপটি ‘ভুল ও মিথ্যা ভাবে’ অনুবাদ করা হয়েছে। তিনি রানি পদ্মাবতী বা গণআত্মাহুতি দেওয়া কোনও মহিলাকেই কাপুরুষ বলেননি। একই সঙ্গে তাঁর অভিযোগ, কিছু সংবাদমাধ্যম এবং সমাজমাধ্যম ব্যবহারকারী বার বার ভুল অভিযোগ তুলে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি করছেন। শেষে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে স্বরা বলেন—ধর্ষণের পরেও একজন মহিলার বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।
আরও পড়ুন:
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল সঞ্জয় লীলা ভন্সালী পরিচালিত ছবি ‘পদ্মাবত’। ছবিতে আলাউদ্দীন খিলজীর চরিত্রে রণবীর সিংহ, রানি পদ্মাবতীর ভূমিকায় দীপিকা পাড়ুকোন এবং রতন সিংহের চরিত্রে শাহিদ কপূর অভিনয় করেছিলেন। মুক্তির পর থেকেই ছবিটি নানা বিতর্কের কেন্দ্রে ছিল। কয়েক বছর পর স্বরার আপত্তি ঘিরে সেই বিতর্কই ফের নতুন করে আলোচনায়।