বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছেন তিন জন। ধৃতদের রাজস্থানের কোটা থেকে মুম্বই নিয়ে আসা হচ্ছে ট্রেনে। রবিবার মুম্বইয়ের জুহুতে এই ঘটনা ঘটে। সোমবার অভিযুক্তদের নিয়ে মুম্বই রওনা দিয়েও নিরাপত্তার কারণে ফিরে আসতে বাধ্য হয় পুলিশ। মঙ্গলবার এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, এ দিন ফের অভিযুক্তদের নিয়ে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে পুলিশ।
কোটা রেলওয়ে থানার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ মুম্বই পুলিশের দল কোটা থেকে রওনা দেয়। প্রায় ১৬ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বুধবার রাত ২টো নাগাদ তাদের মুম্বই পৌঁছোনোর কথা। পরে অভিযুক্তদের মুম্বইয়ের আদালতে পেশ করা হবে।
কোটা পুলিশের পক্ষ থেকে সুভাষচন্দ্র মিশ্র বলেন, “আমরা অভিযুক্তদের মুম্বই পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলাম। মুম্বই পুলিশ ট্রানজ়িট রিমান্ডের অনুমতি নেয় এবং অভিযুক্তদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করানো হয়।” পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়ার সময়ে কয়েক জন তাঁদের অনুসরণ করছিলেন বলে সন্দেহ হয়। এক সূত্রের কথায়, “কয়েক জন তাঁদের পিছু নিচ্ছিলেন। তাই একটি থানায় থামার পরে তাঁরা আবার কোটায় ফিরে আসেন।” নিরাপত্তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার পরেই ফের রওনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। প্রয়োজনে রাজস্থান পুলিশের নিরাপত্তারক্ষী দলও সঙ্গে থাকতে পারে।
ধৃত তিন জন হলেন হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা রেহান রহিসউদ্দীন (১৮) ও ফুল সিংহ (১৮) এবং বিহারের বেগুসরাইয়ের বাসিন্দা হৃতিক মাহতো (২২)। পুলিশের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যায় সাপ্তাহিক ফুটবল খেলা শেষে বেরোনোর সময়ে টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি চালান অভিযুক্তেরা।
এই ঘটনায় অল্পের জন্য রক্ষা পান অভিনেতা। তাঁর শরীরে সামান্য আঘাত লাগে। তবে গুলিতে আহত হন তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস ইব্রাহিম বালুচ। তাঁর বাঁ হাতে গুলি লাগে। এ ছাড়াও, উমেশ চৌহান নামে এক ব্যক্তি আহত হন। তিনি অভিনেতার ভিডিয়ো করছিলেন। গুলিবিদ্ধ উমেশের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশের দাবি, রেহান ও ফুল দু’জনেই দিনমজুর। তাঁরাই গুলি চালিয়েছিলেন। অন্য দিকে, অন্ধেরিতে বসবাসকারী হৃতিক মোটরবাইক চালাচ্ছিলেন। হামলার সময়ে দু’টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে একটি আটকে গিয়েছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
গুলি চালানোর পরে মোটরবাইকে চেপে অন্ধেরি স্টেশনে পালিয়ে যান অভিযুক্তেরা। সেখান থেকে লোকাল ট্রেনে বোরিভলি পৌঁছে গাড়ি ভাড়া করে সুরত যান তাঁরা। পরে পুণে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে ওঠেন। পুলিশের দাবি, পালানোর সময়ে নিজেদের মোবাইল ফোন বন্ধ রেখেছিলেন তিন জন। কিন্তু কোনওক্রমে সেই ফোনের সূত্র ধরে এগিয়ে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের খোঁজ পান।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ট্রেনটি কোটায় পৌঁছোলে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে সাধারণ কামরা থেকে তিন জনকে গ্রেফতার করে। তবে তাদের কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। পুলিশের আরও দাবি, ৩৭ হাজার টাকা এবং বিদেশে পাকাপাকি ভাবে বসবাসের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্তদের এই হামলায় রাজি করানো হয়েছিল। ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।