Advertisement
E-Paper

টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় হরিয়ানা থেকে গ্রেফতার এক মহিলা, মোট ধৃত ১৩

গত ১৮ অক্টোবর টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায় দুই দুষ্কৃতী। ঘটনার পরেই দায় স্বীকার করে বিশ্নোই গোষ্ঠী। তদন্ত চলছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৮
টাইগার শ্রফ।

টাইগার শ্রফ। ফাইল চিত্র।

অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় মুম্বই পুলিশের অপরাধদমন শাখা হরিয়ানার কর্নল থেকে গ্রেফতার করল এক মহিলাকে। ধৃতের নাম সুনেহা পণ্ডিত। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বলে দাবি করা অনিল পণ্ডিতের শ্যালিকা তিনি। তাঁর গ্রেফতারির পরে এই মামলায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৩।

মঙ্গলবার মুম্বইয়ের ‘মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অফ অর্গানাইজ়ড ক্রাইম অ্যাক্ট’-এর বিশেষ আদালতে সুনেহাকে পেশ করার কথা পুলিশের। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে অপরাধদমন শাখা। পুলিশি অভিযানের সময় অনিল পণ্ডিতের ভাই পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছে টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যম ব্যবহার করা হয়েছিল, তাতে সুনেহার ভূমিকা ছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান। তিনি ঠিক কত টাকা পাঠিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযুক্ত অমর মুণ্ডেলিয়ার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়েছিলেন সুনেহা। অন্য দিকে, গুলি চালানোর ঘটনার পর বিশ্নোই গোষ্ঠীর তরফে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ। সেই হুমকিগুলিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, সমাজমাধ্যমে আগ্নেয়াস্ত্রের ছবি, গ্যাংস্টারদের নিয়ে তৈরি গান এবং বিদেশে মোটা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের সংগঠিত অপরাধের জগতে টানছে লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠী। টাইগারের ঘটনায় মুম্বই পুলিশের সাম্প্রতিক চার্জশিট এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদের নথি খতিয়ে দেখে এমনই তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি। অভিযোগ, বিদেশে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক ভাবে দুর্বল তরুণদের দলে টানা হয়। পরে তাঁদের অপরাধমূলক কাজকর্মে যুক্ত করা হয়।

অভিযুক্তদের অনেকেরই বয়স ১৮ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে। গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকা সত্ত্বেও গোষ্ঠীর তরফে তাঁরা সামান্য টাকা পেতেন, কখনও আবার কোনও টাকাই দেওয়া হত না বলে অভিযোগ। পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের সময় কয়েক জন অভিযুক্ত ভেঙে পড়েন। তাঁদের দাবি, আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁদের বৃদ্ধ বাবা-মায়েরা।

একাধিক হাই-প্রোফাইল অপরাধের সঙ্গে নাম জড়িয়েছে এই গোষ্ঠীর। ২০২৪ সালে অভিনেতা সলমন খানের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনা, একই বছর মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মন্ত্রী বাবা সিদ্দীকীকে খুন, চলতি বছরে পরিচালক রোহিত শেট্টীর বাড়ির বাইরে গুলি চালানো এবং অতি সম্প্রতি টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় এই গোষ্ঠীর যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য বলছে, এখনও পর্যন্ত সলমনের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় ৬ জন, বাবা সিদ্দীকীর খুনের ঘটনায় ২৭ জন, রোহিতের বাড়ির বাইরে গুলি চালানোর ঘটনায় ১২ জন এবং টাইগারের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গত ১৮ অক্টোবর, রবিবার, মুম্বইয়ের জুহু এলাকার একটি ফুটবল ক্লাব থেকে বিএমডব্লিউ-তে চড়ে বেরোচ্ছিলেন অভিনেতা। তখনই তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। চালকের পাশের আসনে বসেছিলেন টাইগার। অনুরাগীদের দিকে হাত নাড়াচ্ছিলেন। গাড়ি ক্লাবের গেট পেরোতেই হঠাৎ এক যুবক টাইগারের গাড়ির সামনে চলে আসেন। বন্দুক বার করে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে থাকেন গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনে। এর পর আরও এক যুবক বন্দুক নিয়ে এগিয়ে এসে টাইগার গাড়ির যে দিকে বসেছিলেন, সে দিকের জানলা লক্ষ্য করে গুলি চালাতে থাকেন। তার পর দু’জনেই তৃতীয় এক ব্যক্তির বাইকে চড়ে চম্পট দেন। ঘটনার আকস্মিকতা কাটলে টাইগার দেখেন তাঁর চালকের গুলি লেগেছে। এর পর আর এক মুহূর্ত দেরি করেননি অভিনেতা। এক লাফে আসন বদল করেন। চালকের আসনে বসে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। আহত চালককে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন।

এই হামলার দায় স্বীকার করে বিশ্নোই গোষ্ঠী। এই ঘটনার পরে সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে অনিল পণ্ডিত ও অনিল হরমন সন্ধু হামলার নেপথ্যে থাকার কথা জানান। তাঁরা বিশ্নোই-ঘনিষ্ঠ বলেই খবর। হিন্দিতে লেখা সেই পোস্টে বলা হয়, “আমরা ওঁকে ফোন করেছিলাম, বোঝানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু উনি বোঝেননি। তাই আজ আমরা সবটা ওঁকে ব্যাখ্যা করব বলে সিদ্ধান্ত নিই। মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির যিনি বা যাঁরা আমাদের কথা শুনবেন না এবং সলমন খানের সঙ্গে কাজ করবেন, তাঁরাই আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য। দেখতে থাকুন।”

Tiger Shroff

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy