নতুন ছবির নতুন চরিত্র হয়ে উঠতে কখনও কেউ ওজন ঝরিয়ে ফেলেন, কেউ আবার ওজন বাড়িয়ে নেন। আর এই নতুন কোনও চরিত্রে নিজেদের মেলে ধরতে অভিনেতাদের পরিশ্রম চোখে পড়ার মতো। নতুন ছবির নতুন চরিত্র হয়ে উঠতে কখনও কেউ ওজন ঝরিয়ে ফেলেন, কেউ আবার ওজন বাড়িয়ে নেন। এর জন্য বদলাতে হয় অভিনেতাদের খাদ্যাভ্যাসও। তেমনই এক ত্যাগের গল্প শোনালেন দক্ষিণী তারকা।
বিজয় দেবরকোন্ডা ও রশ্মিকা মন্দানার ‘রণবালী’ নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। বিজয়ও ব্যস্ত তাঁর আগামী এই ছবির কাজ নিয়ে। সম্প্রতি তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা বলতে গিয়ে নিজের পরিবর্তনের কথা জানিয়েছিলেন বিজয়। বিজয় বলেন ‘লিগার’-এর জন্য নিজেকে নাকি তিনি আমূল বদলে ফেলেছিলেন। এমনিতে দিনে চার থেকে ছয় লিটার জল খাওয়া তাঁর নিত্য অভ্যাস। কিন্তু চরিত্রের স্বার্থে তিনি সেই চার থেকে ছয় লিটার জলের বদলে তা নামিয়ে এনেছিলেন মাত্র ১০০ মিলিলিটারে। শুধু তা-ই নয়, প্রতিদিন শুটিংয়ের আগে টানা দশ ঘণ্টা জল না খেয়েও থাকতে হত তাঁকে।
রশ্মিকার সঙ্গে বিজয়। ছবি: সংগৃহীত।
২০২২ সালের ছবি ‘লিগার’-এর জন্য কীভাবে নিজেকে তৈরি করেছিলেন, সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা প্রকাশ্যে আনতে গিয়েই তিনি এ কথা জানিয়েছেন। ‘লিগার’-এ এমএমএ যোদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন বিজয়। এই ছবিটির মাধ্যমেই হিন্দি ছবির জগতে তাঁর অভিষেকও হয়েছিল। চরিত্রের প্রয়োজনে পেশিবহুল, ছিপছিপে চেহারা তৈরি করতে কঠোর শারীরিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল রশ্মিকার জীবনসঙ্গীকে।
বিজয় জানান, শরীরকে আরও পেশিবহুল দেখানোর জন্য শুটিংয়ের আগে তাঁর জল খাওয়ার পরিমাণ ধাপে ধাপে কমানো হত। প্রথমে ধীরে ধীরে জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে তা তিনশো মিলিলিটারে আনা হয়। পরে সেই পরিমাণ একেবারে কমিয়ে ১০০ মিলিলিটারে দাঁড় করিয়েছিলন তিনি। তেষ্টা মেটাতে শেষ পর্যন্ত তাঁকে বরফের টুকরো মুখে রাখতে হত। বিজয়ের জানান, এই পদ্ধতি মোটেই সহজ ছিল না, আ সবচেয়ে বড় কথা এটি স্বাস্থ্যকরও নয়। কখন শুট শেষ হবে, শুধু সেই অপেক্ষা করতাম।’
আরও পড়ুন:
শরীরে জলের পরিমাণ এতটা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠেছিল। বিজয় জানান, শুটিং শেষ হলেই জল খেতে পারবেন— এই ভাবনাই তখন তাঁর মাথায় ঘুরত। চার ঘণ্টার শুটিং শেষ হওয়ার অপেক্ষা করতেন তিনি। শুটিং শেষ হওয়ার পর কী খাবেন, তা নিয়েও বিশেষ আগ্রহ ছিল না অভিনেতার। তাঁর একমাত্র চিন্তা ছিল কতক্ষণে তিনি জলপান করবেন। তাই তাঁর টিমকেও সব ব্যবস্থা করে রাখতে বলতেন বিজয়। শুটিং শেষ হলেই নারকেলের জল নিয়ে প্রস্তুত থাকত টিম। প্রায় চার লিটার নারকেলের জলও চাইতেন বিজয়। এ ছাড়া শুটিং চলাকালীন আড়াই ঘণ্টা পেরোতেই নাকি টিমকে কাজ শেষ করার কথা বলতে শুরু করতেন বিজয়। এই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাই আরও এক বার মনে করিয়ে দেয় এক জন অভিনেতার একটা চরিত্রের প্রতি নিষ্ঠার কথা।