সমাজমাধ্যমে চেহারা ও বয়স নিয়ে কটাক্ষের শিকার হওয়া এবং কাজ পছন্দ না হলেই অভিনেতাদের কুকথা শোনানোর প্রবণতার বিরুদ্ধে সম্প্রতি সরব হয়েছেন বলিউড তারকা সলমন খান। সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের বিরুদ্ধে তাঁর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন বরুণ ধবন, নেহা ধূপিয়া ও পরিচালক রোহিত শেট্টীর মতো তারকারা। এ বার সলমনের পাশে দাঁড়ালেন অভিনেতা বিবেক ওবেরয়!
মঙ্গলবার একটি অনুষ্ঠানে ক্যানসারে আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা যায় বিবেককে। সেখান থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ‘বিগ বস্ ২০’-র মঞ্চে কটাক্ষকারীদের বিরুদ্ধে সলমনের মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিবেক বলেন, “আমার মনে হয়, কাউকে কটাক্ষ করাই উচিত নয়। ট্রোলিং খুব নেতিবাচক একটা বিষয়। জীবনে তো অনেক ইতিবাচক কাজ করার আছে। নেতিবাচকতার মধ্যে কেন পড়ে থাকবেন?”
গত সপ্তাহান্তের পর্বে সমাজমাধ্যমে তারকাদের চেহারা নিয়ে কটাক্ষের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সলমন। সঞ্চালক জানান, তিনিও এমন ট্রোলিংয়ের শিকার হয়েছেন। তাঁকে ‘বুড়ো’ বলা হয়েছে, এমনকি তাঁর মুণ্ডিত মস্তক নিয়েও কটাক্ষ করেছেন কেউ কেউ।
ক্যাটরিনা কইফের সন্তানজন্মের পর ওজন বেড়ে যাওয়া নিয়েও যাঁরা কটাক্ষ করছেন, তাঁদেরও জবাব দেন সলমন। তাঁর কথায়, “সন্তানজন্মের পর সকলেরই ওজন বাড়ে। ও যখন ছবিতে ফিরবে, আবার আগের মতো ফিট হয়ে যাবে। ও এখন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে চায়।”
নিজের শরীর নিয়ে কটাক্ষকারীদের পাল্টা জবাব দেন অভিনেতা। টি-শার্ট খুলে নিজের ছিপছিপে শরীর দেখান তিনি। জানান, তাঁর নতুন ন্যাড়ামাথা ‘লুক’টি ছবির জন্য। পাশাপাশি, তাঁর এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সাম্প্রতিক মৃত্যুর প্রসঙ্গও তোলেন। অন্যকে ছোট করে টাকা রোজগার করা ট্রোলারদের ‘পরজীবী’ বলেও কটাক্ষ করেন সলমন।
তবে বিবেক ও সলমনের বিবাদের কথা সিনেপ্রেমীদের কাছে পরিচিত। সেই আবহে সলমনের পাশে বিবেকের দাঁড়ানোয় আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁদের ঝামেলার সূত্রপাত ২০০৩ সালে। সলমনের প্রাক্তন প্রেমিকা ঐশ্বর্যা রায়ের সঙ্গে বিবেকের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে সেই সংঘাত শুরু। সেই বছরের ১ এপ্রিল সাংবাদিক বৈঠক করে বিবেক অভিযোগ করেছিলেন, ঐশ্বর্যার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কারণে সলমন তাঁকে বার বার ফোন করে হুমকি দিয়েছেন। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেন সলমন।
আরও পড়ুন:
বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকা-বিবাদ হয়ে উঠেছিল এই ঘটনা। এর পর বিবেকের কেরিয়ারেও কঠিন সময় আসে। পরে সাংবাদিক বৈঠক করার সিদ্ধান্তকে ভুল বলে স্বীকার করেন অভিনেতা। ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে সেই ঘটনার প্রভাব নিয়েও কথা বলেছেন তিনি। ২০২৫ সালে বিবেক জানিয়েছিলেন, এখন পিছন ফিরে তাকালে সেই সময়ের প্রতিক্রিয়াকে অপরিণত বলেই মনে হয় এবং অতীতের তিক্ততা কাটিয়ে উঠেছেন তিনি।