Advertisement
E-Paper

ভক্তের শেষ ইচ্ছা, তবু শেষকৃত্যে যাননি যশ! কেন? পাঁচ বছর পর সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিলেন অভিনেতা

ভক্ত চেয়েছিলেন, শেষকৃত্যে অন্তত যেন প্রিয় তারকা শামিল হন। কিন্তু অনুরাগীর ইচ্ছায় সাড়া দেননি অভিনেতা যশ। ২০২১ সালে এই নিয়ে হয়েছিল প্রবল জলঘোলা। পাঁচ বছর পরে সেই সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন ‘টক্সিক’ ছবির অভিনেতা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৪ অগস্ট ২০২৬ ১২:৩৮
কী বললেন যশ?

কী বললেন যশ? ফাইল চিত্র।

এক অনুরাগীর শেষ ইচ্ছা ছিল, তাঁর শেষযাত্রায় যেন প্রিয় অভিনেতা যশ থাকেন। কিন্তু সেই ইচ্ছা পূরণ করতে পারেননি দক্ষিণী তারকা। ঘটনাটি ২০২১ সালের। এত দিন পরে সেই অনুপস্থিতির কারণ নিজেই জানালেন অভিনেতা।

মাণ্ড্য জেলার কোডিদোদ্দি গ্রামের ২৫ বছরের রামকৃষ্ণ ছিলেন অভিনেতা যশের অন্ধভক্ত। শুধু তা-ই নয়, সঙ্গে তিনি ছিলেন কর্নাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ারও সমর্থক। ওই যুবকের মৃত্যুর পরে পাওয়া গিয়েছিল একটি নোট। যেখানে তিনি নিজেকে ব্যর্থ বলে উল্লেখ করেন। সেখানেই নিজের শেষ ইচ্ছার কথা লিখেছিলেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেছিলেন, তাঁর শেষকৃত্যে সিদ্দারামাইয়া ও যশকে দেখতে চাওয়ার কথা। সিদ্দারামাইয়া অনুরাগীর শেষ ইচ্ছা রাখতে পারলেও, উপস্থিত হননি যশ। সেই সময়ে নায়কের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ বারের মতো প্রিয় তারকাকে দেখার ইচ্ছা জানিয়েছিলেন এক ভক্ত। তার পরেও কেন সেই ইচ্ছার মর্যাদা দিলেন না অভিনেতা?

সম্প্রতি, এ বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন যশ। তাঁর যুক্তি আবেগের চেয়েও অনেক বেশি ভবিষ্যৎ-নির্ভর। তাঁর ভয় ছিল, নিজের উপস্থিতির মাধ্যমে তিনি এমন একটি বার্তা দিতে পারেন, যা তাঁর কোনও অনুরাগীর কাছে বিপজ্জনক ভাবে ভুল অর্থ বহন করবে।

যশের বক্তব্যের সারকথা, তিনি যদি রামকৃষ্ণের শেষকৃত্যে যেতেন, তা হলে অন্য কারও মনে এই ধারণা তৈরি হতে পারত যে, নিজের জীবন শেষ করে দিলে প্রিয় তারকার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়, তাঁর কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া মেলে। অভিনেতার চোখে সেই ধারণাটিই সবচেয়ে বিপজ্জনক। অর্থাৎ, রামকৃষ্ণকে এড়িয়ে যাওয়ার জন্য যশ যাননি— এমন দাবি তিনি মানতে নারাজ। বরং একজন তারকা হিসাবে নিজের উপস্থিতির প্রভাব নিয়েই তাঁর আপত্তি। একজন সাধারণ মানুষের কোনও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং কোনও তারকার প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়ার মধ্যে যে ফারাক রয়েছে, যশের বক্তব্যে সেই জায়গাটিই উঠে এসেছে।

তাঁর কথায় আক্ষেপও রয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল। কিন্তু একই সঙ্গে তাঁর মনে হয়েছিল, মৃত্যুর পরে সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করলে তার প্রভাব শুধু ওই পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না-ও থাকতে পারে। যাঁরা তাঁকে অনুসরণ করেন, তাঁদের মধ্যে কেউ সেই ঘটনাকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন।

যশ বরং উল্টো ধরনের সম্পর্কের কথা বলেছেন। কোনও অনুরাগী জীবনে ভাল কিছু করে যদি কোনও সাফল্য অর্জন করেন, তা হলে তিনি দেখা করতে আগ্রহী।

এই সিদ্ধান্তের মানবিক দিকটি অবশ্য সহজ নয়। একটি পরিবারের কাছে প্রিয়জনের শেষ ইচ্ছা অত্যন্ত মূল্যবান। সেখানে যশের অনুপস্থিতি তাঁদের কাছে বেদনাদায়ক হয়ে থাকতেই পারে। আবার একজন তারকার জায়গা থেকে দেখলে, তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যে বৃহত্তর বার্তা হয়ে উঠতে পারে, সেটিও অস্বীকার করা যায় না।

পাঁচ বছর পরে যশের ব্যাখ্যায় অন্তত তাঁর অবস্থানটি পরিষ্কার। তিনি রামকৃষ্ণের মৃত্যুকে ছোট করতে চাননি; বরং নিজের উপস্থিতিকে এমন কোনও দৃষ্টান্তে পরিণত করতে চাননি, যা ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক সিদ্ধান্তকে উৎসাহিত করতে পারে।

Yash

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy