‘লাগে টাকা দেবে গৌরী সেন…’ কে এই ‘গৌরী সেন’? কেন-ই বা দেবে সে টাকা? আক্ষেপের বশে অনেকেই বলে ওঠেন এই কথা। আসলে এই প্রবাদবাক্যের ব্যবহার কিন্তু বহু পুরনো। কিন্তু এই ‘গৌরী সেন’ কি তবে কাল্পনিক চরিত্র? আজ্ঞে না, শোনা যায়, গৌরী সেনের মূল নাম গৌরীকান্ত সেন। সুবর্ণবণিক সম্প্রদায়ের সম্ভ্রান্ত ব্যবসায়ী নাকি তিনি। তাঁর আদি নিবাস কোথায়, সেই নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বলা হয়, বণিক সমাজে বেশ প্রসিদ্ধ হয়ে ছিলেন নাকি তিনি। দু’হাতে অর্থ বিলিয়ে প্রয়োজনে মানুষকে ঋণমুক্ত করার পাশাপাশি কেউ চাইলেই নাকি টাকা দিয়ে দিতেন তিনি। সেই থেকেই জন্ম এই প্রবাদের।
আরও পড়ুন:
এই ভাবেই ‘অতি লোভে তাঁতি নষ্ট’, ‘গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল’ অথবা ‘উলুবনে মুক্তো ছড়ানো’র মতো কত-ই না প্রবাদ ছিল এক সময়ে বাঙালির কথোপকথনের অংশ।
এ ছাড়াও রয়েছে ‘আপন হাত জগন্নাথ, পরের হাত এটো পাত…’ যার অর্থ হল কেবল নিজের জিনিসকে ভাল মনে করা, এবং অন্যের সম পর্যায়ের জিনিসকে ঘৃনা করার প্রবনতা বোঝাতে এই প্রবাদ বলা হয়। আবার কখনও কখনও এমনও কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি গেলে ঘোল পায়না, চাকর কে পাঠায় দুধের তরে…’ যার ব্যাখ্যা হল, এক লোক অন্য আরেক লোকের কাছে অনেক অনুরোধ করেও সামান্য ঘোল (ছানা কেটে ফেলার পর দুধের জলীয় অংশ) আদায় করতে পারলেন না। সেখানে সে পাঠালেন তার চাকরকে ওই একই লোকের কাছ থেকে দুধ চেয়ে আনতে। যেখানে প্রথম অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর বোঝা উচিত ছিল যে এ ক্ষেত্রে কার্যোদ্ধার বৃথা। অর্থাৎ, এমন কোনও কাজ যা আগে থেকেই অনুমান করা হয় যে ব্যর্থ হবে, এমন পরিস্থিতিকে ব্যঙ্গ করে এই প্রবাদ ব্যবহার করা হয়।
এই প্রসঙ্গেই বলা হয় সেই ‘ঘর পোড়া গরু’র কথা, যে সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় (বা ডরায়)। এটিও অত্যন্ত জনপ্রিয় বাংলা প্রবাদ। এর সাধারণ অর্থ হলো, অতীতে কোনো ভয়াবহ বিপদে পড়লে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে, মানুষ পরবর্তীতে তার সাথে সামান্য সাদৃশ্যপূর্ণ কোনও লক্ষণ দেখলেও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ ভাবেই বাংলা প্রবাদগুলি হয়ে উঠেছে বাঙালির প্রতিদিনের সঙ্গী।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।