পাড়ার আড্ডা থেকে চিঠির পাতা, এমন কিছু শব্দ, এক সময় যা ছিল দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, বর্তমান সময়ে খুঁজলেও তাঁদের টিকি পাওয়া দুষ্কর। যেমন ‘পাত্রালাপ’ শব্দটির মধ্যে লুকিয়ে অপেক্ষা ও আবেগের সমন্বয়। তেমনই ‘সওদা’ শব্দটি মনে করায় হাট-বাজারের ছবি। কালের স্রোতে এই ভাবেই হারিয়ে যেতে বসেছে সুন্দর সুন্দর নানা বাংলা শব্দ। অথবা বলা যায়, হারিয়েই গিয়েছে।
ভাষাবিদদের মতে, সমাজ এবং জীবনযাত্রার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে ভাষার শব্দভাণ্ডারে বদল আসা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু নতুন শব্দকে গ্রহণ করতে গিয়ে অতীতকে পুরোপুরি বর্জনের কারণে বহু ভাষাই স্থান পায় ইতিহাসের পাতায়।
সকালের চায়ের সঙ্গে দৈনন্দিন জীবনের খবরা-খবরের মেলবন্ধন কিন্তু বহু পুরনো। কিন্তু তার চেয়েও পুরনো ‘খবর’ শব্দটির এই বিশেষ সমার্থক। ‘ইত্তলা’, যা মাধ্যমে এক সময়ে বোঝাত খবর অথবা সংবাদকে। জানতেন কি? অন্যদিকে প্রতিদিনের চেনা ‘জানালা’র সমার্থক শব্দ হিসেবে ‘বাতায়ন’-এর ব্যবহার এখনও কোথাও কোথাও দেখা গেলেও ‘ঐষধটি তামাদি হয়ে গিয়েছে’ পড়তে গেলেই আটকাবে জিভ! এই ‘তামাদি’ কথার অর্থ কী? উত্তর হল, ‘যার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে’। বাংলা শব্দের পরিস্থিতিও কি খানিকটা তাই?
পাশাপাশি একদিকে যেমন ‘আখড়া’, ‘শাকান্ন’ অথবা ‘চৌহদ্দি’ শব্দগুলি এখনও রয়ে গিয়েছে বাঙালিদের মনে, অন্যদিকে বহু পরিচিত ‘লজ’ বা ‘হোটেল’ মাথা তুলেছে ‘পান্থশালা’র স্থানে।
কিন্তু ক্রমাগত কেন হারিয়ে যেতে বসেছে এমন খাঁটি বাংলা শব্দ? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর নেপথ্যে রয়েছে ইংরেজি ভাষার ক্রমবর্ধমান প্রভাব। এ ছাড়াও প্রতিদিনের জীবনে কথ্য ভাষার আধিপত্য এবং সাহিত্যপাঠের অভ্যাস কমে আসা-ও কম দায়ী নয়।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।