প্রতিদিনের ডাল-ভাতের পাশাপাশি স্বাদকোরককে জাগাতে কখনও কখনও পাতে পড়েই যায় শুক্তো অথবা ঘণ্ট। ডালনাও পাশে থাকে কোনও কোনও দিন। কখনও ভেবে দেখেছেন এই ‘ডালনা’ তো আসলে কোনও ডাল নয়। তা হলে এমন নামের অর্থ কী? আসলে রান্নার বিশেষ এক ধরনই পরিচিত ‘ডালনা’ হিসেবে। নামটির সঠিক উৎস নিয়ে দ্বিমত থাকলেও ধারণা করা হয় এটি এমন একটি ঝোলমুক্ত নিরামিষ তরকারি। অন্যান্য ব্যঞ্জনের থেকে ডালনার মুল পার্থক্য হল, এতে প্রথমেই সাঁতলানো হয় এবং তারপর সেদ্ধ হয়।
অন্য দিকে চচ্চড়ি অথবা লাবড়া তো বাঙালি পরিবারে নিত্যদিনের সঙ্গী। এই দুই পদের নামের নেপথ্যেই লুকিয়ে রান্নার বিশেষত্ব। ‘লাবড়া’ শব্দের অর্থই হল এলোমেলো ভাবে মিশ্রিত। পুজোর খিচুড়ি-ভোগের থালায় এই লাবড়ার সঙ্গেই থাকে চচ্চড়িও। ‘চাঁচড়ানো’ বা নাড়াচাড়া করে শুকনো ভাবে রান্না করার পদ্ধতি থেকেই এসেছে এমন নাম। ভোগের প্রসঙ্গে বলা যায় ‘মোহনভোগ’-এর কথা। কে এই ‘মোহন’? আসলে আকর্ষণীয় বা মনোহর হিসেবে ব্যবহার এই শব্দের, আর ‘ভোগ’-এর অর্থ দেবতার নিবেদন। অর্থাৎ ‘মোহনভোগ’ মানে দেবতার জন্য সুস্বাদু নিবেদন।
চমকের ক্ষেত্রে দশ গোল দেবে বাঙালির বহু পরিচিত শুক্তো-ও। বলা হয়, বর্তমানে শুক্তো মূলত তেতো-সবজির পদ হলেও, অতীতে এর স্বাদ ও উপাদানে ভিন্নতা ছিল। মঙ্গলকাব্য ও বৈষ্ণবসাহিত্যে এই রান্নাটির বহুবার উল্লেখ পাওয়া যায়। এ তো গেল শুক্তোর কথা। এ বার আসা যাক লুচির কথায়। বাঙালির প্রিয় ‘লুচি’ কিন্তু আসলে কোনও বাংলা শব্দ নয়। ভাষাবিদদের মতে, এটি সম্ভবত হিন্দি উদ্ভূত শব্দ। হিন্দিতে পিচ্ছিল বোঝাতে ‘লুচ’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ঘিয়ে ভাজা লুচি হাত থেকে পিছলে যায় বলে, এর নাম হয়েছে ‘লুচি’। অন্য একটি মত অনুসারে, লুচি শব্দটি এসেছে সংস্কৃত ‘লোচক’ থেকে। লোচকের অর্থ চোখের মণি। চোখের গোল মণির সঙ্গে সাদৃশ্য দেখেই এহেন নামকরণ।
মগজাস্ত্রের লড়াইয়ে সেরা স্কুলের খোঁজ করতে আবারও 'শব্দ-জব্দ' নিয়ে হাজির আনন্দবাজার ডট কম। আনন্দবাজার ডট কম আয়োজিত ‘শব্দ-জব্দ ২০২৬'-এর পার্টনাররাও এই সম্মান জ্ঞাপনের সঙ্গী। প্রতিযোগিতার প্রেজ়েন্টিং পার্টনার ‘ইস্টার্ন ইনস্টিটউট ফর ইন্টিগ্রেটেড লার্নিং ইন ম্যানেজমেন্ট’। পাওয়ার্ড বাই পার্টনার ‘রিলায়েন্স ট্রেন্ডস্’, ‘সিস্টার নিবেদিতা ইউনিভার্সিটি’ এবং ‘এনএসএইচএম নলেজ ক্যাম্পাস, দুর্গাপুর’। ধন্যবাদ আমাদের অন্যান্য সহযোগীদেরও — ‘শব্দবাজি’ এবং ‘ডেলিফান’।