তরুণ প্রজন্ম যখন ৪০ পার হতে না হতেই ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্যন্ত্রের অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে, তখন আলাস্কা যাচ্ছেন ৮১ বছরের বৃদ্ধা। সামলাচ্ছেন ব্যবসা। ৮০ পার হওয়া মানেই বার্ধক্যজনিত অসুখে যখন শয্যাশায়ী বেশির ভাগই, তখন কী করে ফিট তিনি?
এমন ‘ডানপিটে’ দিদার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন গুরুগ্রামের এক তরুণী উদ্যোগপতি মেহের তুর। জানিয়েছেন, দিদার এই বয়সের কার্যকলাপ। ঘরে বসে থাকেন না তিনি। ব্যবসা চালান, দেশ-বিদেশে ঘুরেও বেড়ান।
নাতনি ক্যামেরা ধরতেই হাসিমুখে জীবনের গল্প শুনিয়েছেন বৃদ্ধা। দেখলে তাঁকে অনুমান করা যায় না, বয়স আশি পেরিয়েছে! তিনি নিজে মুখেই জানিয়েছেন, তিনি বয়সেও আলাস্কা গিয়েছেন। উপভোগও করেছেন। আর ঘোরাফেরার বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
আলাস্কা নামটা শুনলেই দিগন্তবিস্তৃত তুষার প্রান্তর, ইগলু, এস্কিমো, ছ’মাস দিন-ছ’মাস রাতের এক হিমশীতল দেশের ছবি মনে ভেসে ওঠে। তবে উত্তর আমেরিকার আলাস্কার সম্পূর্ণ ছবিটি এমন নয়। যদিও শীতে এখানকার বিভিন্ন জায়গায় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের বহু নীচে থাকে। তেমন একটি জায়গায় ভ্রমণের জন্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী এবং সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হয়।
আরও পড়ুন:
বয়সকালে যখন বহু মানুষই ভীষণ ভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল থাকেন, অসুস্থতায় জবুথবু হয়ে যান, সেখানে মেহরের দিদার জীবন অবশ্যই অনুপ্রেরণামূলক। এমন জীবনযাপনের মূল মন্ত্র কী? বৃদ্ধা জানিয়েছেন, তরুণ প্রজন্মের উচিত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, নিজের যত্ন নেওয়া এবং জীবন উপভোগ করা। পঞ্জাবের পুষ্টিবিদ এবং যাপন সহায়িকা গরিমা গয়ালের কথায়, হাসিখুশি থাকা, শারীরিক ভাবে সক্রিয় থাকাই বয়সকালে ভাল থাকার মূলমন্ত্র। এই বয়সে মানসিক ভাবেও নিজেকে ব্যস্ত রাখা জরুরি। সক্রিয় থাকা মানেই যে নিয়ম করে শারীরচর্চা করতে হবে, এমনটা নয়। হাঁটাহাঁটি, সাংসারিক কাজ, বেড়াতে যাওয়ার মাধ্যমেও শরীর সচল রখা সম্ভব। নিয়ম করে হাঁটলে, কাজ করলে পেশি সবল থাকে, আত্মবিশ্বাসও বজায় থাকে, যা বয়সকালে খুব জরুরি।
৮১-র বৃদ্ধা পুষ্টিকর ভাল খাবার খেতে বলেছেন। গরিমা মনে করাচ্ছেন, সুস্থ থাকার অর্থ স্যালাড খেয়ে বাঁচা নয় বা কড়া ডায়েটের ফাঁদে পড়ে পছন্দের খাবার বিসর্জন দেওয়া নয়। বরং ঘরোয়া খাবার খেয়েও সুস্থ থাকা যায়। বয়স হয়েছে বলেই, খাওয়া একেবারে কমিয়ে দিতে হবে বা বিশেষ কিছু খেতেই হবে, তা নয়। বরং বয়স্কদেরও কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত। তবে খেয়াল রাখা দরকার, ওজন যেন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে যায়। ভাল থাকার মূল মন্ত্রই হল শারীরিক ভাবে সচল থাকা, খুশিতে থাকা। মনের জোর থাকলে বয়স্করাও চুটিয়ে জীবন উপভোগ করতে পারেন।