গতানুগতিক লিভার ফাংশন টেস্ট কিংবা সাধারণ লিপিড প্যানেল পরীক্ষায় সবটা ধরা পড়ে না। লিভারে মেদ জমার সূচনাপর্বে যে বদলগুলি আসতে থাকে, তা নির্ভুল ভাবে ধরা পড়ে না এ সব পরীক্ষায়। তবে নতুন কিছু পরীক্ষাপদ্ধতি এসেছে, যেখানে ফ্যাটি লিভার থেকে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, এমনকি রক্তনালিতে চর্বির ডেলা জমে হার্ট অ্যাটাকের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা-ও ধরা পড়বে।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা ক্রমাগত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে রক্তে ভাসতে থাকা ওই চটচটে পদার্থগুলিই এক সময়ে ধমনীর গায়ে আটকে যায়। শরীরে রক্ত চলাচল করতে বাধা পায়, শুরু হয় নানা সমস্যা। বয়স ২০ বা ৩০ বছর পেরোলে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এখন সে ধারণা বদলেছে। বরং এমন কিছু নতুন পরীক্ষা পদ্ধতি এসে গিয়েছে যাতে চটজলদি ধরা পড়বে শরীরে ঘটে চলা পরিবর্তনগুলি। আর এই সব টেস্ট ছোটবেলাতেই করানো যেতে পারে। তাতে প্রথম থেকেই বোঝা যাবে, লিভার ও হার্ট কতটা সুস্থ রয়েছে।
কী কী পরীক্ষা করাতে পারেন?
ফাইব্রোস্ক্যান
সুচ ফোটানোর প্রয়োজন হয় না। কেবল শব্দতরঙ্গ প্রয়োগ করে ধরা যায় যে লিভারে মেদ জমছে কি না বা লিভারে ক্ষত হয়ে তা সিরোসিসের পর্যায়ে পৌঁছোচ্ছে কি না। সম্পূর্ণ যন্ত্রণাহীন পদ্ধতি অনেকটা আট্রাসাউন্ডের মতোই। লিভারে মেদ জমার একেবারে গোড়ার কথাই জানিয়ে দেবে এই পরীক্ষাপদ্ধতি।
আরও পড়ুন:
এফআইবি-৪ স্কোর
আলাদা কোনও স্ক্যান নয়, রক্ত পরীক্ষার উপর ভিত্তি করেই একটি হিসাব করা হয় এই টেস্টে। কাজে লাগানো হয় গাণিতিক মডেলকে। রোগীর বয়স, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা, লিভার থেকে নিঃসৃত কিছু উৎসেচকের (এএসটি ও এএলটি) অনুপাতের উপর ভিত্তি করে দেখা হয়, ফ্যাটি লিভার হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না বা পরবর্তী কালে লিভার ক্যানসার হতে পারে কি না।
অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি
সাধারণ কোলেস্টেরলের পরীক্ষা নয়। অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি এমন এক ধরনের প্রোটিন যা কোলেস্টেরলবাহী ওই ক্ষতিকর কণাগুলির ভিতরে থাকে। যার রক্তে ওই প্রোটিনের মাত্রা বেশি, বুঝতে হবে তারই হার্ট অ্যাটাক হওয়ার আশঙ্কা বেশি। এই পরীক্ষাটি করিয়ে রাখলে বোঝা যাবে যে রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল কতটা জমেছে এবং তা থেকে পরবর্তীতে হৃদ্রোগ হওয়ার ঝুঁকি আছে কি না।
আরও একটি পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার কথা বলেন চিকিৎসকেরা, তা হল ক্যারোটিড আলট্রাসাউন্ড। এই পরীক্ষাটিতে ধরা পড়ে, ধমনীর দেওয়াল কতটা পুরু হয়েছে। চর্বি জমে ব্লকেজ হয়েছে কি না, তা-ও ধরা পড়ে এই পরীক্ষায়। সময় থাকতে পরীক্ষাটি করিয়ে নিলে হৃদ্রোগের ঝুঁকিও অনেক কমে।